স্বর্ণজয়ী মার্গারিটার বাবা মামুন আর নেই

রিও অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জিমন্যাস্ট মার্গারিটা মামুনের বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন আর নেই।

শুক্রবার রাশিয়ার মস্কোতে একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজিউন)। আব্দুল্লাহ আল মামুন ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মামুনের মরদেহ বাংলাদেশে আনার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশে আনা না হলে রাশিয়াতেই তাকে দাফন করা হবে।

‘মামুন প্রতি বছরই গ্রামে আসতো। এসে ১৫-২০ দিন থাকতো। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনবছর ধরে আর আসতে পারে না। তার একটি কিডনি নষ্ট হওয়ায় তা কেটে ফেলতে হয়েছে। ছয় মাস আগে সে বাথরুমে পড়ে যায়। এরপর আর চলাফেরা করতে পারে না। ক্যান্সারে আক্রান্ত সে। এখন ঠিকমত কথাও বলতে পারে না। মনে হয় না আর কোনদিন সে দেশে ফিরে আসতে পারবে। কখন যে খারাপ খবর শুনতে হয়।’

গেল বুধবার রাইজিংবিডির রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদককে কথাগুলো বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মার্গারিটার বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বোন দিনা জহুরা। তার সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।

মার্গারিটার বাবা মামুন রাজশাহীর দুর্গাপুরের কাশিপুর গ্রামের সন্তান। গ্রামের লোকেরা তাকে ‘শিপার’ নামে ডাকতেন। চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন মামুন। বেড়ে উঠা ও মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিলেন এই গ্রামেই।

দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করে একাদশ শ্রেণিতে রাজশাহী কলেজে ভর্র্তি হন মামুন। ওখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে। কিন্তু লাশকাটা ঘরের কথা ভেবে তিনমাসেই ডাক্তারি পড়া থেকে মন উঠে যায় তার।

পরে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে মামুন ১৯৮৩ সালে চলে যান রাশিয়ায়। সেখানে রুশ কন্যা ও জিমন্যাস্ট আন্নাকে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মামুন-আন্না দম্পতির ঘরে ১৯৯৫ সালের ১ নভেম্বর মস্কোতে জন্ম নেন কন্যা মার্গারিটা। পরে তাদের দ্বিতীয় সন্তান ফিলিপ আল মামুন জন্ম নেয়।

মার্গারিটা তার মায়ের কাছ থেকেই রিদমিক জিমন্যাস্টে দীক্ষা লাভ করেন। রিও অলিম্পিকে রিদমিক জিমন্যাস্টিকস-উইমেন’স ইনডিভিজুয়াল অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণপদক জেতেন তিনি।

দুর্গাপুরের গ্রামে রয়েছে মামুনের বাবার আমলের একটি পুরনো মাটির বাড়ি। এর পাশেই রাশিয়া থেকে ছুটিতে এসে তৈরি করেছিলেন একতলা ফ্ল্যাট বাড়ি। এ বাড়িতে প্রতিবছরই আসতেন মামুন। সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানরাও আসতেন। মার্গারিটা এসেছেন এ পর্যন্ত তিনবার। কিন্তু দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় গত তিন বছর ধরে আর বাড়িতে আসতে পারেননি মামুন।

You Might Also Like