হোম » স্বপ্ন পূরণের পথে পাঁচ ক্রিকেটার, রনির ‘দ্বিতীয়’ সুযোগ

স্বপ্ন পূরণের পথে পাঁচ ক্রিকেটার, রনির ‘দ্বিতীয়’ সুযোগ

ঢাকা অফিস- Monday, February 12th, 2018

ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন তরুণ চার ক্রিকেটার জাকির হাসান, আফিফ হোসেন, আবু জায়েদ রাহী ও মেহেদী হাসান। নির্বাচকরা পুরস্কৃত করেছেন আরিফুল হককে। পুনরায় আস্থা অর্জন করেছেন আবু হায়দার রনি।

ছয় ক্রিকেটার জায়গা করে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে। এর মধ্যে পাঁচজনই নতুন মুখ। জাতীয় দলের জার্সিতে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন আবু হায়দার রনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পর বাঁহাতি এই পেসার দুই বছর পর পেলেন ‘দ্বিতীয়’ সুযোগ।

সুযোগটিকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চান না রনি। রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে জানালেন নিজের পরিকল্পনার কথা, ‘দুই বছর পর সুযোগ…এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না। সুযোগ পেলে ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে জাতীয় দলে টিকে থাকতে চাই।’

‘ওই সময়টা আমার জন্য খুব বাজে সময় ছিল। দ্রুত জাতীয় দলে ঢুকে বাদ পড়ে যাওয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল আমার জন্য। তারপরও আমি নিজের যে ভুলগুলো ছিল সেগুলো নিয়ে কাজ করেছি। বাদ পড়ার পর যতগুলো টুর্নামেন্ট খেলেছি সেখানে ভালো খেলার চেষ্টা করেছি। শেষ বিপিএল ভালো কেটেছে’- যোগ করেন রনি।

নিজের ভুলগুলোকে শুধুরে নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। শেষ দুই বছর যেখানেই খেলেছেন পারফর্ম করার চেষ্টা করেছেন। বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি গতি বাড়ানো নিয়েও কাজ করেছেন। নিজেকে এ অবস্থায় পরিণত ভাবছেন রনি। জাতীয় দলের হয়ে এখন নিজের সামর্থ্য শো করাই বড় চ্যালেঞ্জ তার।

এবারের স্কোয়াডে খুলনা টাইটান্সের খেলোয়াড়সংখ্যা চারজন। মাহমুদউল্লাহ রয়েছেন আগে থেকেই। নতুন পাঁচ মুখের তিনজনই খুলনার। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় আফিফ হোসেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহ-অধিনায়ক আফিফ ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের সেরাটা নিংড়ে দিচ্ছেন। যুব বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে আইসিসির নজরে এসেছেন। আইসিসি তাকে উদীয়মান ক্রিকেটার বলতেও দ্বিধা করেনি।

জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পাওয়া আফিফের স্বপ্ন আকাশ-ছোঁয়া। বোলিং-ব্যাটিং দুই বিভাগেই নিজের সামর্থ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখাতে চান আফিফ। রোমাঞ্চিত আফিফ বলেছেন, ‘জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না। যদি সুযোগ আসে, ভালো করার চেষ্টা করব। বড়দের সঙ্গে খেলেছি, সামনে থেকে তাদেরকে দেখেছি। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা খারাপ না। আমি যেহেতু অলরাউন্ডার, দুই বিভাগেই দায়িত্ব পালন করতে চাই।’ তরুণ আফিফের আইডল সাকিব। হতে চান সাকিবের মতো বিশ্বসেরা, দলের সেরা তারকা। সেই স্বপ্ন পূরণে এক ধাপ এগিয়েছেন। বাকিটা করতে হবে মাঠে।

খুলনার আরেক অলরাউন্ডার আরিফুল হক। ২৫ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বাদ পড়েন। তারপর তাকে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবেনি বিসিবি। এবারের বিপিএল ছিল তার ফেরার মঞ্চ। যেখানে দারুণ পারফরম্যান্স করে আরিফুল পেয়েছেন জাতীয় দলের টিকিট।
সুযোগ পাওয়া আরিফুল বাজিমাত করতে চান শুরুতেই, ‘জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। একাদশে সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করব, যাতে জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারি। দেশের জন্য খেলা মানে অন্যরকম একটি অর্জন। এটা আমার দায়িত্ব। আমি চাই, শুরু থেকেই যেন আমার পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা থাকে। বাজিমাত করতে চাই শুরুতেই।’

পেসার আবু জায়েদ রাহী নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিন ফরম্যাটের জন্য। ঘরোয়া ক্রিকেটে সবার মুখেই ডানহাতি এই পেসারের সুনাম। দুদিকে বল সুইং করাতে পারায় এই পেসারের কদর অনেকটাই আকাশচুম্বি। বিপিএলে পারফরম্যান্সের পর থেকেই জাতীয় দলে ডাক পাবার আশায় ছিলেন খুলনা টাইটান্সের এই পেসার। নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করে বললেন, ‘আশাবাদী ছিলাম ডাক পাব। বিপিএলে যেমন পারফরম্যান্স করেছি, সেটা জাতীয় দলে অব্যহত রাখতে চাই। আমি বিশ্বাস করি পারফরম্যান্স করলে সুযোগ আসবেই। আমি চেষ্টা করেছি, যেখানেই খেলেছি ভালো করার। শেষ বিপিএলটা ভালো কেটেছে, তাই সাফল্য পেয়েছি।’

বিপিএলে রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলা জাকির হাসান নিজের ব্যাটিং কারিশমা দেখিয়েছেন। তার ব্যাটিং টেম্পারামেন্ট এবং টেকনিকে মুগ্ধ সবাই। বাহারি শট খেলার ক্ষমতা তাকে এগিয়ে নিচ্ছে অনেকদূর।

‘বিপিএলে মোটামুটি ভালো খেলেছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করেছি। সুযোগ এসেছে সেটা ধরে রাখার চেষ্টা থাকবে। চেষ্টা থাকবে দলের প্রয়োজন মেটাতে। সেভাবেই খেলার লক্ষ্য’- বলেছেন জাকির।

বল হাতে ক্রিস গেইল-ব্রেন্ডন ম্যাককালামাদের নাকানি-চুবানি খাওয়ানো মেহেদী হাসান সুযোগ পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজকে টপকে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এই স্পিনার বিপিএলের মঞ্চে সফল। এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায় মেহেদী।

‘প্রথমবারের মতো ‍সুযোগ পাওয়ায় অনেক খুশি। তবে ক্যাম্পে ছিলাম তখনই চিন্তা করেছিলাম ডাক হয়তো আসবে। অলরাউন্ডার হলেও এখন বোলিংয়ে ফোকাস বেশি। ব্যাটিং আমার প্লাস পয়েন্ট। বিপিএলের অভিজ্ঞতা আমাকে বড় মঞ্চে ভালো করতে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। আমি আশাবাদী, সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিতে পারব’- বলেছেন মেহেদী।

দেশকে প্রতিনিধিত্বের স্বপ্ন থাকে সবার। স্বপ্ন পূরণের পথে পাঁচ ক্রিকেটার। ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো ছড়ানো এই ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতুটুক দিতে পারেন, সেটাই দেখার।