হোম » স্বপ্ন দেখে লাভ নেই : বিএনপি নেতাদের হাসিনা

স্বপ্ন দেখে লাভ নেই : বিএনপি নেতাদের হাসিনা

ঢাকা অফিস- Friday, November 24th, 2017

দেশের ‘বিবেকবান’মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে না দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। বৃহস্পতিবার সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে একথা বলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপির তিন মাসের হরতাল-অবরোধে সহিংসতায় প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার এদেশের মানুষের উপর বিশ্বাস আছে, অন্তত যাদের বিবেক আছে তারা এদেরকে কোনো দিন ভোট দেবে না। কাজেই স্বপ্ন দেখে লাভ নেই, বড় বড় কথা বলে লাভ নেই।”

আওয়ামী লীগ সরকারের এই নয় বছরে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “মানুষ শান্তি চায়। মানুষ উন্নতি চায়। মানুষ এটা বুঝতে পেরেছে- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে উন্নতি হয় এবং উন্নতি হবে।”

বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মসূচিতে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপে শতাধিক মানুষ নিহতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কীভাবে, যারা জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে? ‍জনগণ কি তাদের ভোট দিয়ে ওই দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, যারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের কি ভোট দেবে? জনগণ তাদের কেন ভোট দেবে?

“জনগণ কি ভোট দিয়ে ওই আপদ টেনে আনবে, দেশের মানুষ তাদের জীবনকে আবার দুর্বিষহ করে তুলবে? মানুষ ওই অশান্তি আবার টেনে আনবে না।”

আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ‘সম্মানজনক অবস্থানে’ নিয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “মানুষ অন্তত তাদের ভোট দেবে না। দিতে পারে না। ওই অশান্তি আবার টেনে আনবে না।”

বাংলাদেশে আইপিইউ ও সিপিএ সম্মেলন হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যে গণতন্ত্র এনেছি, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি- কত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আমরা এটা করেছি তা বিশ্ববাসী দেখেছে। এজন্য আমরা আইপিইউ ও সিপিএ’র মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পেয়েছি। সফলভাবে আইপিইউ ও সিপিএ সম্মেলন করে আমরা বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছি বাংলাদেশে কীভাবে গণতন্ত্রের চর্চা হয়।”

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অনেকে এই নির্বাচনকে অবৈধ, এটা সেটা বলে। মনে হয় ওই কয়েকটা লোকই সব বুঝে গেছেন। তাদের মাঝে যেন জ্ঞানভাণ্ডার রয়েছে। সারা বিশ্বের জনপ্রতিনিধিদের যেন কোনো জ্ঞানই নেই, তারা না বুঝেই বাংলাদেশকে ভোট দিয়ে দিল।”

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশের ক্ষতি করবে না দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “পরিবেশের ক্ষতি হলে আমরা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতাম না। আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে, যা কিছুই করেন সেটাকে বাঁকাভাবে দেখা আর সেটা না না করা। এটা তাদের অভ্যাস। সেটা তাদের একটা ব্যবসা। এই ব্যবসা করে তাদের কিছু কামাই করার সুযোগ রয়েছে।”

‘সরকারকে টেনে নামানো হবে’- বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এমন একজন মানুষের মুখ থেকে এই কথাটা আসল, তার নাম নিতে চাই না। তার চরিত্রটা কী? ছাত্র জীবনে করছে এক রাজনীতি, ছাত্রশক্তি না কী বোধ হয় করত। তারপর গেল বিদেশে ব্যারিস্টারি পড়তে।

“সেখান থেকে এসে আমাদের বাসার থেকে আর নড়ে না। তাকে ডাকুক আর না ডাকুক আঠার মতো চিপটে থাকে। কোথাও ঠাঁই না পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পিএ হানিফের পিএ হিসেবে তার ব্রিফকেস নিয়ে দৌঁড়াতে শুরু করল।”

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছাকাছি ছিলেন মওদুদ আহমদ। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমানের সরকারে মন্ত্রী হন তিনি। জিয়াউর রহমান নিহতের পর এরশাদের মন্ত্রিসভার সদস্য হন মওদুদ। নব্বইয়ে এরশাদের পতনের পর মওদুদ ফের বিএনপিতে যোগ দেন।