স্নোডেনকে বাগে আনতে রুশ ললনা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাসিত প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনকে বশে আনতে ‘লাস্যময়ী সুন্দরী’ লেলিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। এমন দাবি করেছেন স্বয়ং সোভিয়েত শাসনামলের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির প্রাক্তন কর্মকর্তা বরিস কারপিসকভ।

রাশিয়ার এজেন্টরা যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নিরাপত্তা বিষয়াদি সমন্ধে জানতে তাকে যাতে প্রশ্ন অব্যাহত রাখতে পারেন সে জন্য মস্কোয় স্নোডেনকে রাখতে রাশিয়ান গ্ল্যামারাস মডেল আনা চ্যাপম্যানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার চাকরি ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে ব্রিটেনে আশ্রয় নেওয়া কারপিসকভের দাবি, স্নোডেন ও চ্যাপম্যান মধ্যে মাত্র একবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। কিন্তু টুইটারে প্রতিনিয়ত স্নোডেনকে অনুসরণ করেন চ্যাপম্যান। স্নোডেনকে একবার টুইট করে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিল চ্যাপম্যান। এ সবকিছুই পরিকল্পনার অংশ ছিল। তবে এসবের ফলাফল নিয়ে স্নোডেন দারুণ উদ্বেগে ছিলেন।

সোমবার লন্ডনের সানডে পিপলকে কারপিসকভ বলেন, স্নোডেন যদি ওই প্রস্তাব গ্রহণ করতেন তাহলে তার জন্য রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ হতো। তাকে রাশিয়ায় আটকে রাখাও সহজ হতো ক্রেমলিনের পক্ষে। একজন রুশ নাগরিক হিসেবে দেশত্যাগে তখন রাশিয়ান সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হতো। স্নোডেনকে খুব কাছে পেতে এই কূটকৌশল ক্রেমলিন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন কারপিসকভ।

যদিও স্নোডেনকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি গত বছর মস্কোয় যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম এনবিসির কাছে অস্বীকার করেন চ্যাপম্যান।

মার্কিন সরকারের গোপন সামরিক নথি ফাঁস করে হোয়াইট হাউসের রোষে পড়েন স্নোডেন। গ্রেফতার এড়াতে রাশিয়ায় সাময়িক আশ্রয় নেন তিনি। আপাতত মস্কো শহরে অস্থায়ী আস্তানা গেড়েছেন তিনি।

প্রাক্তন কেজিবির কর্মকর্তার মেয়ে চ্যাপম্যান ২০০২ সালে ব্রিটিশ নাগরিক অ্যালেক্সকে বিয়ে করে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ২০০৪ সালে সে বিয়ে ভেঙে যায়। সেই সময় রাশিয়ার হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হন চ্যাপম্যান। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাশিয়ায় চ্যাপম্যানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। মডেলিংয়ের পাশাপাশি নামী ফ্যাশন ব্র্যান্ডের মালিকানা তার নামে। তার সৌন্দর্য এবং যৌন আবেদন নিয়ে হামেশা সরব হয় রুশ মিডিয়া।

এখন তার সৌন্দর্যের জাদু দিয়ে স্নোডেনকে কতটা ম্যানেজ করতে পারেন সেটাই দেখার বিষয়।

You Might Also Like