স্ত্রীকে পতিতালয়ে বিক্রি!

গাজীপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পতিতালয়ে বিক্রির অভিযোগে স্বামী ও পতিতালয়ের সর্দারনিসহ চারজনকে গ্রেফতার ও ভিক্টিমকে উদ্ধার করেছে নবগঠিত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আস্‌সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে হাজির করলে আদালত তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরের লুটিয়ারচালা এলাকার রমিজ উদ্দিনের ছেলে রানা (২৩), রানার ভাই আশরাফুল ইসলাম (২৫) ও আব্দুল আলীম (৩২) এবং পতিতালয়ের সর্দারনি বৃষ্টি আক্তার (২৩)।

গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পরিদর্শক খন্দকার শওকত জাহান জানান, রানা ও রিক্তা বেগম (ছদ্মনাম) ভবানীপুর এলাকায় পাশাপাশি গার্মেন্ট কারখানায় চাকরি করতেন। দুই বছর আগে রানার সঙ্গে প্রেম করে রিক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মাদকাসক্ত স্বামী রানা শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুক না দেওয়ায় রানা গত ৩ জুন এক দালালের মাধ্যমে রাজবাড়ীর দৌলদিয়া পতিতালয়ে সর্দারনি বৃষ্টি আক্তারের কাছে ৬৩ হাজার টাকায় রিক্তাকে বিক্রি করে দেন। পরে পতিতালয়ে যাওয়া এক খদ্দেরের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিক্তা তার মাকে সকল ঘটনা বলেন।

এ ব্যাপারে গত ২১ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রিক্তার ভগ্নিপতি আব্দুল বাতেন বাদী হয়ে গাজীপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করেন। পরে ওই খদ্দেরকে সনাক্ত করে তাকে নিয়ে ওই পতিতালয়ে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে রিক্তাকে উদ্ধার ও সর্দারনিকে আটক করা হয়। সেখান থেকে ফিরে ভোর রাতে রিক্তার স্বামীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রানা ও তার আরো দুই ভাইকে আটক করে পিবিআই। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শওকত জাহান আরো জানান, গত ২৪ জুন মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেন আদালত। এটি পিবিআইয়ের প্রথম মামলা।

You Might Also Like