সৌদি পৌর নির্বাচনে ২০ নারীর বিজয়

সৌদি আরবের রাজতন্ত্রের ইতিহাসে এবারই প্রথম দেশটির পৌরসভার নির্বাচনে নারীরা নির্বাচিত হয়েছেন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ২০ নারী নির্বাচিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পৌরসভার নির্বাচনে এবারই প্রথম সৌদি আরবে নারীকে প্রার্থী এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দেয়া হলো। অবশ্য এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশটির নারীরা শেষ পর্যন্ত কতোটা লাভবান হবেন তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
শনিবারে অনুষ্ঠিত সৌদি পৌরসভার নির্বাচনে এক লাখ ৩০ হাজার নিবন্ধিত নারী ভোটারের মধ্যে এক লাখ ছয় হাজার ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ দেশটির বৈধ নারী ভোটারের ৮২ শতাংশ এ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। দেশটির দুই তৃতীয়াংশ পৌরসভাতে এ নির্বাচন হয়েছে। পৌর নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে রিয়াদে। সৌদি রাজধানীতে চার নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে।
সৌদি পৌরসভার জাতীয় পর্যায়ে কোনো ক্ষমতা নেই। দেশটির পৌরসভা কোনো আইনও তৈরি করতে পারে না।
এবারের নির্বাচনে সাত হাজার প্রার্থীর মধ্যে ৯৭৯ জন ছিলেন নারী। এ সব প্রার্থী ২১০০ আসনের জন্য ভোট যুদ্ধে লড়েছেন। এর আগে দেশটিতে দুই দফা পৌর সভার নির্বাচন হয়েছে। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয় ২০০৫ এবং দ্বিতীয়টি ২০১১ সালে। এই দুই নির্বাচনেই নারীদের অংশ গ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল।
ওয়াহাবি অনুশাসনে শাসিত সৌদি আরবে নারীদের ভ্রমণে জন্য পুরুষ অভিভাবককে সঙ্গে নিতে হয়। এ ছাড়া, পুরুষ অভিভাবকের অনুমোদন ছাড়া সৌদি নারী বিয়ে করতে পারেন না। দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমোদন দেয়া হয় না। গাড়ি চালানোর অনুমোদনের দাবিতে সৌদি নারীদের একটি অংশকে আন্দোলন করতে দেখা গেছে। এখনো তার কোনো সুফল দেখা যায় নি।
পরলোকগত সৌদি রাজা আবদুল্লা বিন আবদুল আজিজ আস-সৌদ ২০১২ সালে পৌর নির্বাচনে নারীকে ভোট দেয়ার এবং প্রার্থী হওয়ার অধিকার দেয়ার ঘোষণা প্রথমবারের মতো দিয়েছিলেন। এ ছাড়া, দেশটির শীর্ষ উপদেষ্টা পরিষদ শুরায় ৩০ জন নারীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরলোকগমন করেন রাজা আবদুল্লা।
অবশ্য ক্ষমতাহীন পৌরসভায় নারীকে নির্বাচনের অধিকার দেয়ার পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে রিয়াদের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসে নি। বরং একে নামমাত্র কিছু সংস্কারে মধ্য দিয়ে দেশটিতে আলে সৌদি রাজবংশের একচ্ছত্র শাসনকে দীর্ঘায়ত করার তৎপরতার অংশ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

You Might Also Like