সৌদি-কাতার বাকযুদ্ধ তুঙ্গে: মার্কিন মধ্যস্থতা বিঘ্নিত

সৌদি-কাতার সম্পর্কের ব্যাপারে মার্কিন মধ্যস্থতার কথা প্রচার হতে না হতেই আবারও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমান কায়রোয় কাতার সম্পর্কে তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করার পর এই উত্তেজনা দেখা যায়।

সালমান বলেছিল: “কাতার একটা ছোট্ট দেশ এবং সংকটও এতো ছোট যে গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই। সৌদি সরকারের যে-কোনো মন্ত্রীই ওই সংকট নিরসনের জন্য যথেষ্ট”। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বলেছেন: “সৌদি দাবি আসলে বাস্তবতার বিপরীত। রিয়াদ, কাতার সংকট নিয়ে মারাত্মক বেড়াজালে আটকা পড়েছে। কাতার একটা ছোট্ট দেশ ঠিকই কিন্তু বিবেক বুদ্ধিমান নেতৃত্বের অধিকারী এবং দেশের নাগরিকসহ যারাই কাতারে বসবাস করে সবাইকেই দেশটি গুরুত্ব দেয়”।

কোনো একটি সরকারের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিবর্তে রাজনৈতিক অবমাননাকর শব্দের ব্যবহার তাদের মহা বিরক্তিরই প্রমাণ বহন করে। সুতরাং কাতার সংকট সৌদি সরকারকে যে কী পরিমাণ জটিল পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে, প্রিন্স সালমানের মন্তব্য থেকে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

রিয়াদ-দোহার কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ দুর্বল দিকটিও উঠে এসেছে। সেটা হলো কাতার একটি ছোট্ট দেশ এবং তাদের জনসংখ্যাও কম। মাত্র বাইশ লাখ জনসংখ্যার সাত ভাগের এক অংশ কাতারের মূল নাগরিক। এগারো হাজার পাঁচ শ ছিয়াশি বর্গকিলোমিটারের এই দেশটি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের একটি ছোট্ট দেশ হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া দেশটির অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক শক্তি সৌদিআরব ও ইরানের মাঝখানে। এটাও আরেকটি দুর্বল দিক। প্রিন্স সালমান এই দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরে কাতারকে তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেইসঙ্গে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে রিয়াদ এখনও কাতারকে স্বাধীন দেশ বলে গণ্য করে না এবং ‘বার্ডস আই ভিউ’ থেকেই দেখে। কাতারের সঙ্গে সৌদি-আমিরাত-বাহরাইন-মিশরের যে দ্বন্দ্ব তার মূল কারণ দোহার প্রতি ওই দেশগুলোর তাচ্ছিল্যপূর্ণ দৃষ্টি।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া থেকে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট। সেটা হলো সৌদি আরবের বর্তমান নেতৃত্ব রাজনৈতিক দিক থেকে পরিপক্ক নয় এবং সেদেশে বিদেশিরাসহ সকল নাগরিকই অধিকার বঞ্চিত। কাতারের আমিরের ভাই জুয়ান বিন হামাদ আলে সানি সে কারণেই প্রিন্স সালমানকে “আবু জেহেলের” সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রিন্স সালমান সম্প্রতি লন্ডন সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্রিটিশ নাগরিকরা পর্যন্ত সৌদিআরবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

তারপরেও প্রিন্স সালমানের সাম্প্রতিক তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য প্রমাণ করছে দোহা-রিয়াদ সংকটের সমাধান শিগগিরই নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

You Might Also Like