সৌদি আরব অর্থের দাপটে জাতিসংঘকে অপব্যবহার করছে: বান কি মুনের হতাশা প্রকাশ

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব জোটকে ইয়েমেনে শিশু মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য কালো তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ জাতিসংঘকে অর্থ সাহায্য বন্ধের হুমকি দেয়ার পরপরই তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স কিছুদিন আগে জানিয়েছিল, সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলো এ ইস্যুতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল। এমনকি রিয়াদ ফিলিস্তিন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দিয়েছিল। যারা বিভিন্ন যুদ্ধে শিশু অধিকার লঙ্ঘন করছে সেইসব দেশ বা সশস্ত্র গ্রুপকে জাতিসংঘের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব সামরিক জোট গত বছর ২৬ মার্চ থেকে ইয়েমেনে বিরামহীনভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ আগ্রাসনে নিরপরাধ শিশুদেরকেও টার্গেট করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ বিভিন্ন সংঘর্ষে শিশুদের অবস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, গত এক বছরে ইয়েমেনে যত শিশু মারা গেছে তার ৬০ শতাংশই মারা গেছে সৌদি আরবের বিমান হামলায়। এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৫১০ এবং আহত হয়েছে ৬৬৭টি শিশু। প্রতিবেদনে আরো এসেছে, সৌদি নেতৃত্বে সামরিক জোটের হামলার লক্ষ্যবস্তুর অর্ধেকই ছিল স্কুল ও হাসপাতাল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘের এ প্রতিবেদন সত্বেও সংস্থাটি সৌদি আরব ও তার মিত্রদের হুমকির কাছে মাথা নত করেছে। জাতিসংঘের এ পদক্ষেপে আবারো প্রমাণিত হয়েছে, এ সংস্থাটি জাতিগুলোর সেবায় নিয়োজিত থাকার পরিবর্তে তারা কোনো কোনো সরকারের অধীনস্থে পরিণত হয়ে তাদের ইচ্ছেমত কাজ করছে এবং তাদেরই স্বার্থ দেখাশোনা করছে। সরকার ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা এবং বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করার গুরু দায়িত্ব জাতিসংঘের। কিন্তু কয়েকটি দেশ জাতিসংঘকে তাদের অশুভ ও অন্যায় লক্ষ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কোনো কোনো দেশ জাতিসংঘকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করার বিনিময়ে তাদের কিছু রাজনৈতিক সুবিধাও হাসিল করে নিচ্ছে।

জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো এ সংস্থা পরিচালনায় অর্থ দিয়ে থাকে। আবার অনেকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও সহযোগিতা করে। যারা স্বেচ্ছায় বাড়তি সহযোগিতা করছে তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। তারা কার্যত এ সংস্থাকে নিজ লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিজ দেশে এমনকি অন্য দেশেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গত এক বছর ধরে সৌদি আগ্রাসনে ইয়েমেনের বহু শিশু মারা গেলেও জাতিসংঘকে বিপুল অর্থ দিয়ে সহায়তার কারণে সৌদি আরব এ অন্যায়ের ব্যাপারে জবাবদিহিতা করার প্রয়োজন অনুভব করছে না।

অনেকের মতে, কয়েকটি দেশের রাজনৈতিক খেলার হাতিয়ার হিসেবে জাতিসংঘ এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যে, ব্যাপক মাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সৌদি আরবের মতো দেশগুলো শুধু টাকা জোরে নিজেরাই সব কিছুর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই।

You Might Also Like