সোনারগাঁয়ে আরও ৪ জনসহ করোনায় আক্রান্ত অর্ধশতাধিক

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় একের পর এক কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

করোনা সন্দেহে গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে ৪ জনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে বলে নিশ্চিত করেন সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার সাহা।

ডা. পলাশ কুমার সাহা জানান, নতুন আক্রান্ত ৪ জন করোনা রোগীর মধ্যে ২ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। এদের মধ্যে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিসে একজন, বাড়ি চিনিসে একজন, পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর একজন ও সোনারগাঁও পৌরসভার চিলারবাগ গ্রামের একজন।

তারা সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক। এ নিয়ে সোনারগাঁয়ে সর্বমোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করছেন ২ জন।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত সোনারগাঁ থেকে সর্বমোট ২৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে ৫১ জনের মধ্য করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সর্বমোট ৫১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে ১২ জন, সুস্থ হয়েছেন ২ জন।

শম্ভুপুরা ইউনিয়নে ১৪ জন, মেঘনা শিল্পাঞ্চলে ৮ জন, মোগরাপাড়া ইউনিয়নে ৮ জন, কাঁচপুর ইউনিয়নে ৩ জন ও পৌরসভায় ২ জন, সনমান্দি ইউনিয়নের চরলালে স্বামী-স্ত্রী ২ জন ও পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুরে ২ জন।

এরমধ্যে মোগরাপাড়ার গোহাট্টা ও শম্ভুপুরার চেলারচর এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ জন।

তিনি আরও জানান, সোনারগাঁয়ে প্রতিনিয়ত করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও অপ্রয়োজনে বাড়ির থেকে বের না হওয়ার জন্য প্রতিদিন প্রচার-প্রচারণা চালনো হলেও অনেকেই তা মানছেন না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অনেক ব্যবসায়ী ও প্রবাসীকে জরিমানা করা হলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছেনা।