হোম » সেনা মোতায়েন, ‘না’ ভোট ও সংসদ ভেঙে নির্বাচনের প্রস্তাব

সেনা মোতায়েন, ‘না’ ভোট ও সংসদ ভেঙে নির্বাচনের প্রস্তাব

admin- Tuesday, August 1st, 2017

নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সেনা মোতায়েন, ‘না’ ভোট প্রবর্তন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দেওয়াসহ বেশ কিছু প্রস্তাব করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সক্রিয় হতে এবং আগামী সংসদ নির্বাচনকে ভয়মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক করতে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।

গতকাল সোমবার ইসির সঙ্গে সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এসব প্রস্তাব ও পরামর্শ দেন। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল থেকে সংলাপ শুরু করেছে ইসি। সুশীল সমাজের ৫৯ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসি। তবে সংলাপে অংশ নেন ৩৪ জন। গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে সংলাপ শুরু হয়, চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। মাঝে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি ছিল।

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে শামসুল হুদা কমিশনের সময় সংলাপ ছিল উন্মুক্ত, গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে। এবার তা হয়নি। এবার সংলাপ ছিল রুদ্ধদ্বার কক্ষে।

সংলাপ শেষে সংবাদ সম্মেলন করে সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, অধিকাংশ বক্তা বলেছেন সেনাবাহিনী মোতায়েন করা সঠিক হবে। ভোটার তালিকায় সংখ্যালঘুরা যাতে বাদ না পড়েন এবং তাঁরা ভোট দিতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়েন, সেদিকে খেয়াল রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গতকাল নির্বাচন কমিশন সংলাপ শুরু করে। সেনা মোতায়েন

সংলাপে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুশীল সমাজের অনেকে বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট, ভোটার—সবার মনে আতঙ্ক রয়েছে। আতঙ্ক দূর করতে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দীন খান, অধ্যাপক অজয় রায়, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ বেশ কয়েকজন এই প্রস্তাব করেছেন। তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান এবং এম এ কাশেম সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

সংলাপে আসিফ নজরুল বলেন, সেনাবাহিনীকে দিয়ে যদি হাসপাতাল, বিমা প্রতিষ্ঠান চালানো যায়, রাস্তা নির্মাণের কাজ করানো যায়, ত্রাণ দেওয়ার কাজ, এমনকি ট্যাক্সি সার্ভিসের কাজ করানো যায়, তাহলে সেনাবাহিনীকে দিয়ে নির্বাচনের কাজ করানো যাবে না কেন?

সংলাপে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, সেনা মোতায়েনের প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দলেরই মাথাব্যথা থাকা উচিত নয়। কমিশন চাইলে এটা হতে দেওয়া দরকার।

সংলাপ থেকে বের হয়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে বেশির ভাগ প্রতিনিধি মতৈক্যে পৌঁছেছেন।

প্রসঙ্গত, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় পুলিশ, আর্মড পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর কথা নেই। ২০০৯ সালে

আরপিও সংশোধনীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞা থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’, তারা ক্যাম্পে অবস্থান করবে, প্রয়োজনে তাদের ডাকা যাবে।

‘না’ ভোট

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোট ছিল। ২০০৯ সালে বিধানটি বাতিল করা হয়। এখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের কেউই ‘না’ ভোট রাখাকে জরুরি মনে করে না। তবে গতকাল সংলাপে ‘না’ ভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব আসে। এর পক্ষে সুশীল সমাজের যুক্তি হলো, বড় দলগুলো অনেক ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়, যাদের পেশিশক্তি আছে এবং কালোটাকার মালিক। বড় দুই দল এভাবে মনোনয়ন দিলে ভোটার যে তা পছন্দ করছেন না, সেটা বোঝানোর জন্য ‘না’ ভোট দরকার।

সংলাপে উপস্থিত থাকা সূত্র জানায়, বেশির ভাগই ‘না’ ভোটের পক্ষে বলেছেন। তবে ‘না’ ভোটের বিপক্ষে মত দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন। তাঁর যুক্তি, ভোট দিতে না যাওয়াটাই ‘না’ ভোট। অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, ভোটকেন্দ্রে মানুষ নানা কারণে না যেতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে যাতে ভোটার বলতে পারেন কোনো প্রার্থীকেই তাঁর পছন্দ নয়, সেটাই ‘না’ ভোট।

পরে অধ্যাপক তাসনিম এ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘না’ ভোটের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ‘না’ ভোটের বিধান থাকলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অনেকে ‘না’ ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতেন।

সংসদ ভেঙে দেওয়া

সংলাপে সুশীল সমাজের কেউ কেউ নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। এর পক্ষে যুক্তি হলো, সংসদ বহাল থাকলে এখনকার সাংসদেরা বিশেষ সুবিধা পাবেন এবং প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পাবেন।

সংলাপ শেষে এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া জরুরি। না হলে সাংসদদের প্রভাব থাকবে। তিনি এই প্রস্তাব করেছেন।

ইসিকে সক্রিয় হতে হবে

সংলাপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অনেকে বলেছেন, এর আগে কাজী রকিব উদ্দীন কমিশনের কার্যকলাপের কারণে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সেই আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসিকে শক্তভাবে কাজ করতে হবে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি সংলাপে বলেছেন, সংবিধানের ১১৮(৪) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী হতে হবে। পানামা পেপারসে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের কেউ যেন প্রার্থী হতে না পারেন। ভবিষ্যতে যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী কোনো দল নিবন্ধন না পায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দীন খান বলেন, সব দলকে ভোটে আনতে হবে, এ জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ইসির স্বাধীন ভূমিকা মানুষের কাছে দৃশ্যমান করতে হবে এবং তা প্রমাণ করতে হবে। নির্বাচনী আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন কীভাবে নিরপেক্ষ থাকবে এবং তাদের নিরপেক্ষ রাখতে ইসি কীভাবে ভূমিকা রাখবে, এসব দেখতে হবে। কিছু বিষয়ে আইনের দুর্বলতা আছে। সেগুলো সংস্কার করে ঘাটতিগুলো পূরণ করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ধর্মের বিষয় একেবারেই রাখা যাবে না। এ ব্যাপারেও সুশীল সমাজের বেশির ভাগ প্রতিনিধি মতৈক্যে পৌঁছেছেন।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তিনি ইসিকে সক্রিয় হওয়া ও সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, নিকট অতীতে ইসি নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগে অনীহা দেখিয়েছে।

পরে সংবাদ সম্মেলনে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, নাগরিক সমাজ থেকে বেশি পরামর্শ এসেছে যে, কমিশনকে সাহসিকতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। জাতি ইসির কাছে সুষ্ঠু ও ভালো নির্বাচন আশা করে। সেটা তাঁরা বারবার মনে করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি। আইনের আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে পদক্ষেপ, যে ক্ষমতা কমিশনের ওপর সাংবিধানিকভাবে অর্পণ করা আছে, সে সাংবিধানিক দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব।’

সিইসি বলেন, ভুলভ্রান্তি হতে পারে, কিন্তু ইসি কঠোরভাবে নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করে। বর্তমান ইসি যে নির্বাচনগুলো করেছে, সেখানে খুব একটা অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা আস্থা অর্জনের ‘ডেমোনেস্ট্রেশন’ হতে পারে।

তফসিলের আগেও করার আছে

সিইসি সম্প্রতি বলেছিলেন যে তফসিল ঘোষণার আগে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইসির কিছু করার নেই। সুশীল সমাজের সংলাপে অনেকে এ কথার সঙ্গে দ্বিমত জানান।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে ইসির করার কিছু নেই, এমন বক্তব্য তাঁরা অনেকে গ্রহণ করেননি। এখন থেকে ইসির অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। এম হাফিজ উদ্দীন খানও সাংবাদিকদের একই কথা বলেছেন।

সহায়ক সরকার

সংলাপে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। দু-একজন এর সরাসরি বিরোধিতা করেন। আর বিষয়টি নিয়ে ইসিকে কিছু না বলার পরামর্শ দেন কেউ কেউ।

সংলাপ শেষে হোসেন জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সহায়ক সরকার, এটা রাজনৈতিক বিষয়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ হওয়া উচিত বলে তিনি সংলাপে মত দেন।

বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংলাপের একপর্যায়ে সিইসি বলেছেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের দরকার রয়েছে, এটা কতজন মনে করেন। তখন অনেকেই হাত তুলে বলেছেন, এটা দরকার আছে। এ পর্যায়েও সাবেক দুই আমলা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক রাখার দরকার নেই। এ ছাড়া ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেন, ইভিএম ব্যবহার করে নতুন বিতর্ক টেনে আনা ঠিক হবে না।

সংলাপে হলফনামায় প্রার্থীর দেওয়া তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা, প্রশাসন ঢেলে সাজানো, মনোনয়ন-বাণিজ্য নজরদারি করা, প্রবাসীদের ভোটার করা, আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখা, অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা, অনলাইনে নির্বাচনী প্রচার নিয়ন্ত্রণ, নারী আসনে সরাসরি ভোট, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের অপব্যবহার, সাম্প্রাদয়িক ভিত্তিতে ভোট চাওয়া নিষিদ্ধ করা, ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনোভাবেই প্রচারে ব্যবহার না করা, পার্বত্য এলাকায় ভোটার তালিকা তৈরিতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে।

সংলাপে আরও অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোকিয়া আফজাল রহমান ও রাশেদা কে চৌধূরী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান সা’দত হুসাইন, অধ্যাপক অজয় রায়, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান, অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন, সাবেক সচিব মহিউদ্দীন আহমদ, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল, মুভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল হক, আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আবুল হাসান চৌধুরী, ব্রতির শারমীন এস মুরশিদ, আলী হাসান আসকারি, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।

সংলাপে সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, সাদাত হোসেন চৌধুরীসহ কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল প্রথম দিনের সংলাপে ইসির কিছু অব্যবস্থাপনাও চোখে পড়েছে। আমন্ত্রণ ছাড়া দুজন সংলাপকক্ষে ঢুকে পড়েন। এর মধ্যে এক নারী সম্মেলনকক্ষের ভেতরেই চিৎকার শুরু করেন। পরে দুই অনাহূত ব্যক্তিকে বের করে দেওয়া হয়।

পরে সংবাদ সম্মেলনে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত ইসি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।

সংলাপ সরকারকে চাপে রাখতে, বিএনপিকে আস্থায় আনতে কোনো ভূমিকা রাখবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরা বাধ্য করতে পারব কি না, জানি না। তবে আমার তো মনে হয়, নির্বাচন নিয়ে নাগরিক সমাজের যে বার্তা, তা সরকারের কাছে পৌঁছে যাবে এবং যারা বিরোধী দলে আছে অথবা যারা সংসদে বিরোধী দলে নেই, তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। মনে হয়, এর মাধ্যমে তারা একটা সমঝোতায় আসতে পারবে। আমার ধারণা, এর একটা প্রভাব পড়বে।’

সিইসি বলেন, ‘পরবর্তীতে অন্যান্য সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হবে। তাদের বক্তব্য শুনে চার-পাঁচ মাস পর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেশ করব। সেখান থেকে যেসব উপাদান নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার প্রয়োজন, সেগুলো আমরা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি প্রক্রিয়া কী, কীভাবে, কতভাবে নেওয়া যায়, সেগুলো চিন্তা করব।’