সেনাবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে : আশরাফ

সংসদ কার্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি আধুনিক করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদে সরকারি দলের ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিরা বাহিনীকে আরো কার্যক্ষম ও গতিশীল করার ল্েয বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, সেনাবাহিনীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় খসড়া জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি ও সেনাবাহিনী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ নির্ধারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭ পদাতিক ডিভিশন নামে একটি পদাতিক ব্রিগেড, ৯৯ সম্মিলিত বিগ্রেড নামে একটি ব্রিগেড, ৩৬০ পদাতিক ব্রিগেড ৪টি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, ১টি ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন, ১টি রাডার কন্ট্রোল এডি ইউনিট, ১টি ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার কোম্পানি এবং ১টি ইএমই সেকশন নতুন গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আওতায় আগামী ৬ বছরের মধ্যে একটি আর্টিলারি ব্রিগেডসহ ৩৬টি ইউনিট গঠন করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগ সরঞ্জামাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা সামগ্রিকভাবে সেনাবাহিনীর সারশক্তি ও চলাচল সমতা আরো অনেক বৃদ্ধি করবে।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য সেল্ফ প্রোপেল্ড গান, অত্যাধুনিক এ্যামুনিশন প্ল্যান্ট, চতুর্থ প্রজন্মের এমবিটি-২০০০ মডেলের ট্যাংক, উইপন লোকেটিং রাডার, আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, আর্মার্ড রিকভারী ভেহিক্যাল এবং হেলিকপ্টার ক্রয় সম্পন্ন করেছে যা নিজস্ব সমরশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আরো পেশাগত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা প্রতি বছর উন্নতমানের ১২,০০০ বিডি-০৮ রাইফেল উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি আধুনিক করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, নৌবাহিনীকে আরো কার্যক্রম ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ প্রণয়নপূর্বক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সমুদ্র এলাকায় বহিঃশত্রুর মোকাবেলা ছাড়াও জলদস্যুতা, মাদক, অস্ত্র, মানব চোরাচালান প্রতিরোধ, সামুদ্রিক দূষণরোধ এবং মৎস্য ও খনিজ সম্পদের সুরক্ষা ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে একটি শক্তিশালী নৌশক্তি গড়ে তোলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

You Might Also Like