হোম » সেনানিবাস এলাকায় অপরাধে জরিমানা সর্বোচ্চ ২০০০০ টাকা

সেনানিবাস এলাকায় অপরাধে জরিমানা সর্বোচ্চ ২০০০০ টাকা

ঢাকা অফিস- সোমবার, মে ১৫, ২০১৭

সেনানিবাস এলাকায় ভিক্ষা করাসহ ৪৩ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘সেনানিবাস আইন, ২০১৬’ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকা এক ধরনের পৌর ব্যবস্থাপনার মত। অর্থাৎ পৌরসভা যেভাবে তাদের এলাকা ম্যানেজ করে, এটাও সেভাবে ম্যানেজ করবে। বোর্ডের কার্যক্রম কেমন হবে তা এই আইনে বলা আছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ৯০ বছর আগে যেসব জরিমানা নির্ধারণ করা ছিল সেসবের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ৪৩টি বিষয়ে আর্থিক জরিমানার বিধান বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট আইন ১৯২৪ সালের। ওখান থেকে অনেক অনাবশ্যক ধারা বাদ দিয়ে, নতুন কিছু ধারা যোগ করে ২১৮টি ধারায় নিয়ে আসা হয়েছে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মাতলামি, ভিক্ষা, জুয়া খেলা, মলমূত্র ত্যাগ করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আগে এ ক্ষেত্রে জরিমানা ছিল মাত্র এক টাকা। ডিসিপ্লিনের জন্য এটা বাড়ানো হয়েছে।

আইন অনুযায়ী বাসা-বাড়ির কর (হোল্ডিং ট্যাক্স) নির্ধারণের ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করা না হলে দায়ী ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে, জানিয়ে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এজন্য আগে এক টাকা জরিমানা করা হতো। এখন সে জায়গায় ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তথ্য প্রদানে অবহেলা ও দায় প্রকাশের বাধ্যবাধকতার শাস্তি ছিল ১০০ টাকা। এখন এটাকে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আগের আইনে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমার ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা ছিল না, জানিয়ে তিনি বলেন, এখন প্রস্তাব করা হয়েছে, তিনবারের বেশি সময়সীমা বর্ধিত করার আবেদনের ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও পাঁচ বারের বেশি বর্ধিত করার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে কেউ রাস্তাঘাটের নিয়মনীতি অমান্য করলে আগে জরিমানা ছিল ৫০ টাকা। এখন কমপক্ষে দুই হাজার টাকা, সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সিনেমা প্রদর্শনী ইত্যাদির জন্য আগে জরিমানা ছিল ২০০ টাকা। প্রস্তাবিত আইনে এটা বাদ দেওয়া হয়েছে। আতশবাজি আগ্নেয়াস্ত্র ইত্যাদি ফোটানোর জন্য জরিমানা ছিল ৫০ টাকা। এখন কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা।

মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে আগে শাস্তি ছিল ৫০০ টাকা। এটা কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সড়কের সরকারি ভূমি খননে ২০ টাকা জরিমানা ছিল। এখন কমপক্ষে ২ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সেনানিবাস এলাকায় বেসরকারি বাজার বা কসাইখানা স্থাপন করলে শাস্তি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর লাইসেন্স ছাড়া বাজার বা কসাইখানা খুললে জরিমানা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে তিন হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া জনগণের দৃষ্টির সামনে খোলা অবস্থায় মাংস বহন করা, কোনো বিকলাঙ্গতা, ব্যধি বা অশোভন আঘাত অনাবৃত করে প্রদর্শন করার জন্যও শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া আইনে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। আগে জরিমানা ছিল ২০০ টাকা। পশুকে আবর্জনা ইত্যাদি খাওয়ানোর শাস্তি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

অবৈধ পানি ব্যবহারের জরিমানা এখন ৫০ টাকা। নতুন আইনে কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জরিমানা ছিল ১০০ টাকা। এখন কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।