সুন্দরবন উপকূলে চিংড়ির পোনা ও কাঁকড়া আহরণ, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকার নদ-নদী থেকে চিংড়ির রেণু (পোনা) ও কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন ওই অঞ্চলের গরীব মানুষ ও জেলে সম্প্রদায়। আর এই চিংড়ি রেণু ও কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে তারা বিনষ্ট করছেন অন্যান্য প্রজাতির মাছ ও অণুজীব। এতে হুমকির মুখে পড়ছে সেখানকার জীববৈচিত্র্য।

সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গত কয়েক দশক ধরে নদী থেকে লোনা পানি নিয়ে ঘেরে চিংড়ি চাষ করা হয়। বিশেষ করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, রমজানগড়, কৈখালী, কাশিমাড়ী এলাকায় ১০ হাজারের বেশি মাছের ঘের এবং এক হাজারের বেশি কাঁকড়ার খামার আছে।

এসব ঘেরে সুন্দরবন এলাকার নদী থেকে আহরিত চিংড়ি রেণুর চাহিদা অনেক বেশী। ফলে জেলেরা ঘন জাল ব্যবহার করে নদী থেকে চিংড়ি পোনা সংগ্রহ করে। তারা চিংড়ি রেণু বেছে আলাদা করে সংগ্রহ করাকরে আর জালে ধরাপড়া অন্যান্য জলজ প্রাণি ও অনুজীবগুলো আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেয়। ফলে সেগুলো মারা যায়। জেলেরা ছাড়াও এলাকার দরিদ্র মহিলা এবং শিশুরাও এভাবে চিংড়ির পোনা সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপুল পরিমান জলজ প্রাণী ধ্বংশ করে ফেলছে।

পরিবেশবিদগণ বলছেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে চিংড়ির রেণু আহরণের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট এবং জীবন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অনেক অণুজীবের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সুন্দরবনের ওপর।

তারা মনে করেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে রেণু আহরণ করায় এক সময় বিভিন্ন জাতের মাছ ও প্রাণীর অস্তিত্ব সংকট দেখা দেবে। তাই এখনই এ বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট জনেরা বলছেন, জেলেদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাদের এ বিষয়ে কোনও প্রশিক্ষণও নেই। চালানো হয় না কোনও প্রচারণা। প্রশাসনেরও এ নিয়ে কোনও নীতিমালা নেই।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান গণ-মাধ্যামকে বলেছেন, ‘সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার মানুষরা তাদের অসতর্কতার কারণে রেণুপোনা আহরণের সময় অন্যান্য অণুজীব ধ্বংস করছেন। সেজন্য এই অঞ্চলের মানুষকে সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেছেন, ‘সম্প্রতি জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া ও চিংড়ি আহরণ সংক্রান্ত নীতিমালা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি নীতিমালা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবন এলাকায় বেশ কয়েকটি হ্যাচারি গড়ে উঠায় আগের তুলনায় বদি থেকে কাঁকড়া ও চিংড়ি রেণু আহরণ কমেছে।’

You Might Also Like