বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত বিলে ভারতের মন্ত্রিসভার অনুমোদন

বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি বিলে অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আজ (মঙ্গলবার) সকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। স্থলসীমান্ত চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ১৬১টি ছিটমহল বিনিময় হবে। স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভারতের সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে দেশটির নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন। কিন্তু রাজ্যসভায় বিজেপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।

স্থলসীমান্ত চুক্তি বিলে আগেই সমর্থন জানিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু বিজেপি সরকার অসমকে বাদ রেখে ভূমি হস্তান্তর সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাস করার উদ্যোগ নেয়ায় কংগ্রেস ও অসম সরকার বিরোধিতা শুরু করে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ চুক্তিতে অসমকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন। কংগ্রেসও জানিয়ে দেয় অসমকে বাদ দিয়ে স্থলসীমান্ত চুক্তি হতে দেবে না তারা। এই অবস্থায় অসমের সংসদ সদস্যরা গতরাতে বিজেপি নেতা অমিত শাহ, রাজনাথ সিংহ, সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে আসাম থেকে নির্বাচিত দলের সব সাংসদের সামনে সীমান্ত বিলের যাবতীয় খুঁটিনাটি, কংগ্রেসের আপত্তি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের চিঠি এবং কংগ্রেসের অনমনীয় ভূমিকার কথাও সেখানে ব্যাখ্যা করা হয়। বলা হয়, এই আন্তর্জাতিক চুক্তি ৪২ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। আর বিলম্ব সম্ভব নয়। এর সঙ্গে দেশের মর্যাদা জড়িত।

ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, বিলটি ঠিক যেভাবে রাজ্যসভায় রয়েছে, সেভাবেই পাস করানো হবে। আসামের ওপর এর যে প্রভাব পড়বে, তা বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে।

বৈঠক শেষে অসমের বিজেপি সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের বহু চেষ্টা সত্ত্বেও গগৈ ও সোনিয়া গান্ধীর অসম বিরোধী অবস্থানের কারণে স্থলসীমান্ত চুক্তি থেকে অসমের নাম বাদ যাবে না। এই চুক্তি করতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তাই এর বিল পাস করাতে সংসদে দুই–তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। অথচ রাজ্যসভায় গরিষ্ঠতাই নেই সরকারের। এই পরিস্থিতিতে অসমকে চুক্তির আওতায় আনতে হচ্ছে বলে জানান সিদ্ধার্থবাবু।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে কাল বুধবার সীমান্ত বিলটি অপরিবর্তিতভাবেই রাজ্যসভায় পাস করিয়ে বৃহস্পতিবার লোকসভায় পাস করানোর চেষ্টা হবে। এই তাড়াহুড়োর একমাত্র কারণ লোকসভার অধিবেশন ৮ মে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেই এই ১১৯ তম সংবিধান সংশোধন বিলটি পাস না হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে যাবে। মোদি জুন মাসে ঢাকা আসতে আগ্রহী।

২০১৩ সালে চুক্তিটি রাজ্যসভায় উত্থাপন করা হয়। পরে এটি কংগ্রেস নেতা শশী থারুরকে প্রধান করে একটি নির্বাচিত কমিটির কাছে পাঠানো হয়। ওই কমিটি চুক্তিটি বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়।

You Might Also Like