সিরীয় শরণার্থীদের কান্নায় নিরব ধনী আরব বিশ্ব

২০১১  সালের মার্চ মাসে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সূচনা ঘটে, সেই থেকে শুরু; পরবর্তী তিন বছরে প্রায় চার লাখ মানুষ সিরিয়ায় এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। নিজ দেশে মেলেনি আশ্রয়, সহায়তার হাত বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলো; ইরাক, লেবানন, তুরস্ক, জর্ডান, মিশর। কিন্তু তাতে করে তাদের মানবেতর জীবনের কোন শ্রীবৃদ্ধি ঘটেনি। আশ্রয়দাতা দেশগুলোর মধ্যে ইরাক, লেবানন ও মিশর রাজনৈতিকভাবে খুবই উত্তপ্ত হয়ে আছে পূর্ব হতেই, এ অবস্থায় শরণার্থীদের অবস্থা অনেক ক্ষেত্রে হয়েছে জ্বলন্ত উনুন থেকে ফুটন্ত কড়াইয়ে পড়ার মতোই।

আশ্রয়দাতা দেশগুলো বেশিরভাগই অতীতের সমৃদ্ধ অর্থনীতি খুইয়ে এখন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। তারপরও তারা আশ্রয় দিয়েছে। অথচ ধনী উপসাগরীয় আরব দেশগুলো বিস্ময়করভাবে পুরোপুরি নিরব।

উপসাগরীয় আরব দেশগুলো নিজেদের অতি তুঙ্গে থাকা অর্থনীতির জোরে বিলাসে গা ভাসাতে কসুর করছে না যদিও, কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর সাধারণ নাগরিকদের জন্যে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই আদপেই। যদিও ধর্মীয় ও জাতিতাত্ত্বিক মিলের সূত্র ধরে মিলনের বাণী প্রায়ই আওড়ানো হয়ে থাকে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নাম উচ্চারণেও সমীহ জাগে; সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাত, ওমান; খনিজ বিক্রয় করে একসময়ের দারিদ্র কাটিয়ে আজ বিলাসব্যসনে সমৃদ্ধতম দেশগুলোর তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়েছে তারা। নিজেদের ভেতর সৃষ্টি করেছে ‘কোঅপরারেশন কাউন্সিল ফর দ্য আরব স্টেটস অব দ্য গালফ’, যারা পারস্পরিক সহায়তার মধ্য দিয়ে জিডিপিকে টেনে নিয়ে গেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে। সিরীয় শরণার্থীদের জন্যে পশ্চিমা দাতা দেশগুলো যুদ্ধের ব্যয়ের তুলনায় তিলকসম অর্থব্যয় করলেও, করছে বটে; কিন্তু ধনী আরবদেশগুলো সেটুকুও করছে না।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বাস্তু, শরণার্থী ও অভিবাসী সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান শরীফ আল সাইয়েদ আলি জানাচ্ছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ০.১৭ শতাংশ শরণার্থীর পুনর্বাসন করেছে এবং বেশ কিছু প্রস্তাবনাও সম্পন্ন করেছে। কিন্তু পুরোপুরি অনুপস্থিত রয়ে গেছে উপসাগরীয় আরব বিশ্ব, রাশিয়া এবং চীন। তারা কোন অর্থসহায়তা করেনি, কোন পুনর্বাসন প্রস্তাবনাও দেয়নি। শরীফ আল সাইয়েদ এর ভাষ্যের বাইরে এসে আরও মনে করিয়ে দেয়া যেতে পারে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যে সৌদি আরব চলতি বছরের অগাস্ট মাসে ১০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে উপসাগরীয় আরববিশ্বের মহারথী সৌদি আরব।

২০১৫ সাল নাগাদ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শরণার্থী সংক্রান্ত পরিকল্পনাটি হচ্ছে, আসছে বছর জুড়ে অন্তত ৫ শতাংশ শরণার্থীর সম্পূর্ণ পুনর্বাসন ঘটানো। অনিঃশেষ যুদ্ধগুলোর বিপরীতে কোন সংস্থার কোন উদ্যোগ নেই।

You Might Also Like