সিরাজ কারাগারে, সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের কচুয়ার সিরাজুল হক ওরফে কসাই সিরাজকে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি এম এনায়েতুর রহমানের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্যারিষ্টার সাইদুল হক সুমনের আবেদন প্রেক্ষিতে তাকে সেফ হোমে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে ট্রাইব্যানাল।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে আজ বৃহস্পতিবার তাকে বাগেরহাট থেক ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সিরাজের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়নি।

আগামী ২০ আগস্ট তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন সংক্রান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য রেখেছেন ট্রাইব্যানাল।

এর আগে গত ২১ জুলাই সোমবার রাত ১১টার দিকে তাকে বাগেরহাটের কচুয়ায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শাখারীকাঠি বাজারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িতে অগ্নিসংযোসহ ৬টি অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামে তার চাচা শ্বশুর মৃত মোসলেম পাইকের পরিত্যক্ত খুপড়ি ঘর থেকে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

এ পর্যন্ত শাখারীকাঠী গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক তিন আসামির সকলকেই পুলিশ কচুয়া, রাজশাহী ও বাগেরহাট সদর থেকে আটক করেছে।

বাগেরহাট সদরের গোটাপাড়া গ্রামের মৃত হারেজ উদ্দিনের ছেলে গ্রেফতারকৃত সিরাজ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধের পর এলাকা ছেড়ে সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত দল দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন ও আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করে।

ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১০ জুন এই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে কচুয়া থানা পুলিশ গত ১১ জুন এই মামলার অপর পলাতক আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদার গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে।

এরপর গত ১৯ জুন অপর পলাতক আসামি আকরাম হোসেন খানকে রাজশাহী থেকে মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করে।

অবশেষে এই মামলার প্রধান পলাতক আসামি সিরাজ মাস্টারকে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ সদর উপজেলার ডেমা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কচুয়ার শাখারীকাঠি বাজারে ৪২ জনকে গণহত্যা করা হয় তার মধ্যে রঘুদত্তকাঠি গ্রামের শহীদ জিতেন্দ্র নাথ দাসের ছেলে নিমাই চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ২০০৯ সালে কচুয়া থানায় সিরাজ মাস্টারসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

You Might Also Like