সিট সংকটে পড়বে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর পাস করা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হতে পারবেন না পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তো দূরের কথা আসন স্বল্পতার কারণে ভর্তি হতে পারবেন না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও।

তাই অনেককে বাধ্য হতে হবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কিংবা বিকল্প ব্যবস্থায় উচ্চ শিক্ষার গ্রহণ করতে। এ অবস্থায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মানের পাশাপাশি দ্রুত আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিলেন শিক্ষাবিদরা।

এই বাঁধনহারা উল্লাসই বলছে এরা এইচএসসি পাশ করেছে, অনেকেই পেয়েছে জিপিএ ফাইভও। এখন চোখেমুখে স্বপ্ন উচ্চশিক্ষার জন্য পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতে, এবছর সারাদেশে মোট ৩২টি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে পারবে প্রায় ৩৬ হাজারের মত শিক্ষার্থী। অথচ এবছর এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভ-ই পেয়েছে ৭০,৬০২ জন। আর সারাদেশের ৭০ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে আরও প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী।

এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে আরও প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী। সবমিলিয়ে এবছর সারাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আছে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীর। অথচ এবছর এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় সবমিলিয়ে পাশই করেছে পায় নয় লাখ শিক্ষার্থী।

এ অবস্থায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরাও। একজন বলেন, এটা আমাদের জন্যও একটা চিন্তার বিষয়। কিন্তু কিছু করার নেই এটা মেনে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যারা ভালো করে প্রস্তুতি নেবে, তারাই সুযোগ পাবে।

এদিকে, শিক্ষাবিদরা বলছেন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির স্বার্থে খুব দ্রুত সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসন বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানও বৃদ্ধি করতে হবে। আর গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি গুরুত্ব দিতে হবে কারিগরি শিক্ষার মত বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার দিকেও।

শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেহেতু এতো আসন নেই কাজেই অনিবার্যভাবেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে। তবে এর বেশিরভাগেরই আবার গুণগত মান নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমরা যদি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যার ব্যবস্থা না করতে পারি,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান উন্নত করতে না পারি, তাহলে এ ফাঁকটা থেকেই যাবে।

এসবের পাশাপাশি শিক্ষাখাতে জিডিপির কমপক্ষে ৬ শতাংশ অর্থ বরাদ্দেরও দাবি জানান শিক্ষাবিদরা।

You Might Also Like