সিটি নির্বাচনে অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে, তদন্ত দাবি

বাংলাদেশের ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও সংঘর্ষের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট তাদের কাছেও রয়েছে বলে দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একই দাবি করেছিল।

বুধবার এক বিবৃতিতে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অনিয়ম ও সংঘর্ষের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইইউ। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বানের পরও ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার জোরালো অভিযোগ পাওয়া গেছে, যার ফলে বিএনপি নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া নির্বাচনে ভোটারদের সম্পূর্ণরূপে গণতান্ত্রিক মতামত প্রয়োগের সুযোগও দেয়া হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইইউ প্রত্যাশা করছে যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে সব রাজনৈতিক পক্ষই যে কোনো ধরনের সহিংসতা, অস্থিরতা ছড়ায় এমন আচরণ থেকে বিরত থেকে গঠনমূলক আচরণ করবে। সকলের দায়িত্বপূর্ণ আচরণই বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে।

একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপি-অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের তাগিদ দিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক এ বিষয়ে বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি বর্জনের বিষয়ে অবগত আছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুন। তিনি ভোট কারচুপির সব অভিযোগ তদন্ত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আহবান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বিরোধী পক্ষ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করবে বলে আশা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

ফারহান হক আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে সব রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান গুরুত্ব সহকারে পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

এর আগে আমেরিকা, ব্রিটেন, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনসহ বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন মঙ্গলবারের ওই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

হংকং ভিত্তিক খ্যাতিমান মানবাধিকার সংগঠন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন তো এক বিবৃতিতে ওই নির্বাচন ভূয়া আখ্যা দিয়ে তা জালিয়াতি ও প্রতারণাপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেছে।

এছাড়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি), অধিকার-সহ আরো কিছু সংস্থা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে।

অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান ও বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রহসনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছে ‘অধিকার’। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার এই সংকট ও এব্যাপারে সৃষ্ট ব্যাপক হতাশাজনক পরিস্থিতিতে অধিকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অধিকার মনে করে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া বাতিল করে দেশকে এক চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৪ এর ৫ই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচন এবং ২০১৪ এর উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

You Might Also Like