সালাহ উদ্দিন কি ইলিয়াস আলীর পথে, প্রশ্ন রফিকের

ছয় দিন ধরে নিখোঁজ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, সালাহ উদ্দিনকে তারা গ্রেপ্তার করেনি।

এ ব্যাপারে গতকাল রবিবার উচ্চতর আদালতে দেয়া পাঁচ পাঁচটি প্রতিবেদনের সাফ কথা বিএনপির এই নেতা তাদের হাতে নেই। দীর্ঘ দিন ধরে আত্মগোপনে থেকে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া বিএনপি নেতার এই হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে নানামুখী বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এমনিভাবে প্রায় তিন বছর আগে এক রাতের আধারে নিখোঁজ হন বিএনপির আরেক নেতা ইলিয়াস আলী। বিএনপি ঐ জন্য সরকারকে দায়ী করেছিল এবং সালাহ উদ্দিনের ক্ষেত্রেও বিএনপি সন্দেহের আঙ্গুল সরকারের দিকে।

এর আগে বিএনপি সরকারের আমলে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন নিখোঁজ হন। পরে দীর্ঘ দিন পর পাহাড়ে তাঁর কঙ্গাল পাওয়া যায়।কে বা কারা তাকে অপহরন করেছিল তার খোঁজ মেলেনি আজো।

সালাহ উদ্দিনের পরিবার এ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও।

সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সালাহ উদ্দিনের ব্যাপারটা তো ইলিয়াস আলীর মতো হয়ে যাচ্ছে। ইলিয়াস আলীর বিষয়টি আজও স্পষ্ট হয়নি। যেকোনো দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটা মানে আপনি-আমি সবাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাই। আশা করি, এটার সুরাহা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এটা একটা রহস্য মনে হচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী বললেন, “মালপত্রের সঙ্গে ওনাকে বের করে দিয়েছে।” তাহলে প্রধানমন্ত্রী জানেন, সালাহ উদ্দিন কোথায় গিয়েছেন। তাহলে তাঁকে বের করে দিন।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘সালাহ উদ্দিন আহমদের নিখোঁজের বিষয়টিতে নাগরিক হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন। তাঁকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা চাই দ্রুত এর সমাধান হউক।’

গত ১০ মার্চ থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না সালাহ উদ্দিন আহমেদের। সালাহ উদ্দিন আহমদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে গত ১২ মার্চ তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদ হাইকোর্টে আবেদন করেন।

হা্ইকোর্টের আদেশের জবাবে পুলিশের পাঁচটি শাখা বলেছে, তারা সালাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার বা আটক করেনি। তবে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

হাইকোর্টকে দেওয়া প্রতিবেদনে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ, র‌্যাব, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বিশেষ শাখা (এসবি) পাঁচটি আলাদা প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে। গতকাল রবিবার ১৫ মার্চ এ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।

জানতে চাইলে ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। কে্উ নিখোঁজ হলে তাকে খুঁজে বের করা সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব। কারণ এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে এটি দেশের জন্য একটি ‘অ্যালার্মিং’ বিষয়। নাগরিকরা যে কেউ এর শিকার হতে পারেন। তাই যতো দ্রুত সম্ভব এটির সফল ইতি ঘটনা উচিত।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া, এখন আবার সালাহ উদ্দিনকে না পাওয়া এসব কিছুই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা বলে আমার কাছে মনে হয়। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই্ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়াটাই কাম্য।

১০ মার্চ রাত নয়টা থেকে ১০টার মধ্যে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সালাহ উদ্দিনকে ধরে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছে সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। এরপর থেকে তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

You Might Also Like