সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ফারুক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রাক্তন চিফ রিপোর্টার ও দৈনিক আজকের পত্রিকার সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ফারুক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এর আগে তিনি দৈনিক যুগান্তর ও সমকালে কাজ করেছেন।

রোববার সকালে সাংবাদিক ফারুকের শ্যালক আখলাকুর রহমান রাইজিংবিডিকে তার দুলাভাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

আখলাক জানান, ফারুক শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাকরাইল মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিএনজি অটোরিকশার জন্য। এমন সময় একটি ট্রাক এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তিনি রাস্তায় পড়ে থাকেন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর কয়েকজন রিকশাওয়ালা ও একজন মোটরবাইক আরোহী এসে ফারুককে তোলেন। তার পকেট থেকে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন বের করে নম্বর নিয়ে স্ত্রী শাহনাজের কাছে ফোন করে বলেন, ‘ফারুক সাহেব সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আপনারা সেখানে আসেন।’

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, জরুরি ভিত্তিতে ফারুককে আইসিইউতে নিতে হবে। তার অবস্থা ভালো নয়। ঢাকা মেডিক্যালের আইসিইউতে বেড না পেয়ে পরে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যান করানোর পর জানান, ফারুক ক্লিনিক্যালি ডেথ। এখন চিকিৎসা চালাতে চাইলে চালাতে পারেন। ওনার ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।

পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলেন। এরপর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসকরা জানান, ফারুককে বাঁচানো সম্ভব হলো না।

আজ দুপুর ২টায় ফারুকের মরদেহ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে আনা হবে। সেখানে জানাজা শেষে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাফন করা হবে।

দাফনের বিষয়ে জানতে চাইলে আখলাক জানান, ফারুকের বড় ভাই আবদুল্লাহ আল সরকার পাবনা থেকে রওনা হয়েছেন। তিনি এলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে লাশ আজিমপুর নাকি পাবনার সাঁথিয়ায় ফারুকের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।

সাংবাদিক ফারুক স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। মেয়ে ফার্মগেটে একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে আর ছেলে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। তিনি মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের ৩০/১৯/বি বাসায় সপরিবারে থাকতেন।

এদিকে সাংবাদিক ফারুকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ডিআরইউ ও প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতারা।

You Might Also Like