হোম » সরকার নিম্ন আদালতের পর উচ্চ আদালতও নিজেদের কব্জায় নিতে চায় : প্রধান বিচারপতি

সরকার নিম্ন আদালতের পর উচ্চ আদালতও নিজেদের কব্জায় নিতে চায় : প্রধান বিচারপতি

ঢাকা অফিস- Wednesday, May 24th, 2017

সরকার উচ্চ আদালতও নিজেদের কব্জায় নিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালত তো কব্জায় নিয়ে গেছেন। এখন উচ্চ আদালত নিতে চাচ্ছেন।’

২৩ মে মঙ্গলবার পঞ্চম দিনের মতো সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানিকালে এ কথা বলেন তিনি।

শুনানিতে আদালত আরও বলেন, নিম্ন আদালতের ৮০ পার্সেন্ট সুপ্রিমকোর্টের নিয়ন্ত্রণে নেই। আপনি বলছেন, বিচার বিভাগ কার্যকর, এক জেলায় ৫ মাস ধরে জজ নেই। বিচার বিভাগ কার্যকর হলো কীভাবে?

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আপিলের এই শুনানি চলছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার যুক্তি খণ্ডন শুরু করেছেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত শুনানি চলার পর আধাঘণ্টার বিরতি দিয়ে সাড়ে ১১টা থেকে আবার শুরু হয়েছে শুনানি।

এর আগে গত ৮ মে সোমবার হাইকোর্টের দেওয়া রায় পাঠের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময়ের আবেদন জানালেও তা মঞ্জুর করেননি সর্বোচ্চ আদালত। এরপর হাইকোর্টের দেওয়া রায় পড়ে শোনান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

৯ মে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানির শুরুতেই আদালতের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওই দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে দুইটি আবেদন দাখিল করেন।

একটিতে শুনানি দুই সপ্তাহ মুলতবি ও অপরটিতে, হাইকোর্টের রায়ে সংসদ সদস্যদের নিয়ে যেসব বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে সেগুলো বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার আবেদন করা হয়।

২১ মে রোববার তৃতীয় দিনের মতো শুনানির দিন সকালে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের লিখিত যুক্ততর্ক উপস্থাপন করে। পরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা লিখিত এই যুক্তিতর্ক আদালতে পড়া শুরু করেন। সেই আবেদন উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায়ই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

২২ মে সোমবার চতুর্থ দিনের মতো শুনানিকালে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বক্তব্য শুরু করেন। তিনি সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে পড়া শুরু করেন।

সেই পড়া অসমাপ্ত থাকা অবস্থায়ই সোমবার দিনের শুনানি শেষ হয় এবং মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।