‘সরকারের মন পুলিশ পুলিশ’

‘অনির্বাচিত’ সরকার মানসিকভাবে দুর্বল হওয়ায় বিএনপি নেতাদের দাবিয়ে রাখতে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাজা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, অপরাধীদের মন যেমন পুলিশ পুলিশ করে, তেমনি তাদের মনও পুলিশ পুলিশ করছে। কারণ তারা মানসিকভাবে দুর্বল। জনপ্রিয়তাও শূন্যের কোটায়।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমুলক রায়ের’ প্রতিবাদে এর আয়োজন করে ‘৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য পরিষদ’। সভায় ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের আলোচিত নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সরকার বিএনপি ও জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ‘ভয় পায়’ বলেই ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অর্থ পাচার মামলায় নিম্ন আদালত থেকে খালাস পাওয়ার পরও তারেক রহমানকে উচ্চ আাদলতে সাজা দেওয়ায় প্রমাণ হয়েছে, এটি সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। কিন্তু যতই ষড়যন্ত্র হোক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে অতীতেও নিশ্চিহ্ন করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।

তিনি বলেন, আধিপত্যবাদীরা মনে করেছিল- জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিঃশেষ করে দেওয়া যাবে। কিন্তু তা হয়নি। জীবিত জিয়ার চেয়ে মৃত জিয়া আরো জনপ্রিয় হয়েছেন। বিএনপি হচ্ছে গ্রিক রূপকথার ফিনিক্স পাখির মতো। এই দলকে নির্মূল করা যাবে না।

দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতন্ত্র ভুলুণ্ঠিত, বাক স্বাধীনতা নেই, অলিখিত বাকশাল চলছে। ক্ষমতাসীনরা সীমা লঙ্ঘন করছে। কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করে তারা পার পাবে না।

গণতন্ত্রহীণতার কারণে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে দাবি করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, দেশে এই পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার জঙ্গিবাদ উত্থানে সহযোগিতা করছে। কারণ যেখানে গণতন্ত্র থাকে না, সেখানে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়।

দেশের সংকট নিরসনে সরকারের ‘বোধদয় হবে’ আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এর মাধ্যমেই জঙ্গিবাদকে দমন করা সম্ভব। সে জন্য খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগসহ আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া না দিলেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই ঐক্য দেশ রক্ষা করবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।

ডাকসুর প্রাক্তন ভিপি এবং বিএনপির প্রাক্তন যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ডেমোক্রেটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম।

You Might Also Like