‘সরকারি লোকজন জড়িত থাকায় মানবপাচার বন্ধ হচ্ছে না’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, যারা বিদেশে যেতে চায় তাদের আগ্রহকে এক ধরনের দুষ্টচক্র কাজে লাগায়। এ দুষ্টচক্রের কার্যক্রম ছোট অবস্থায় বন্ধ করা হয়নি দেখে তারাই আজকে মহীরূহ হয়েছে। সরকারি দলের জনপ্রতিনিধিরা জড়িত থাকায় এটি বন্ধ করা যাচ্ছে না। বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর টিসিবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের ১১৬তম পর্ব হয়। এতে অন্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ওয়ালি-উর রহমান। অনুষ্ঠানে এক দর্শক জানতে চান- “যেকোনো উপায়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টার কারণে ঘটে চলা মানব পাচার এবং এর ফলে অনেকের ভাগ্যে যে করুণ পরিণতি ঘটছে, সরকার তা বন্ধ করতে পারছে না কেন ?” উত্তরে ড. সি আর আবরার বলেন, “মালয়েশিয়ায় যে প্রক্রিয়ায় অভিবাসন প্রক্রিয়া্ চলছে তা জটিল। এ প্রক্রিয়া সরকারের কার্যক্রম যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। কারণ এতে ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা জড়িত। যারা বিদেশে যেতে চায় তাদের আগ্রহকে এক দুষ্টচক্র কাজে লাগায়। এ দুষ্টচক্রের কার্যক্রম ছোট অবস্থায় বন্ধ করা হয়নি দেখে তারাই আজকে মহীরূহ হয়েছে।” তিনি বলেন, “সরকারের স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের নাম উঠে এসেছে পত্রিকায়। তাদের জড়িত থাকার কারণে মানবপাচার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।” ড. আবরার বলেন, “স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, কোস্টগার্ড বলছে মানব পাচার হচ্ছে না। তাহলে এর আগে যে ১৭০ জনকে উদ্ধার করা হলো তারা কারা? আর ওই ঘটনায় জড়িত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন? কেনই বা এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ফলোআপ আসছে না? এক দর্শক বলেন, “সরকারের প্র্ক্রিয়ায় ভুল ছিল। কারণ ভিসা প্রসেসিংয়ে অনেক দেরি হয়েছে।” ওয়ালি-উর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারই চেয়েছেন সরকারিভাবে লোকজন বিদেশে যাবে। এজন্য ব্যাংকও খুলেছে সরকার। কিন্তু গ্রাম থেকে যারা বিদেশে যেতে চাইছে তাদের বেসরকারিভাবে পাচার করা হচ্ছে প্রলোভন দেখিয়ে।” তিনি বলেন, “সরকার একটি আকর্ষণীয় আয়োজন করেছে। তবে সরকারের এখন কিছুটা উন্মুক্ত করে দিয়ে বেসরকারি উদ্যোগেরও সুযোগ করে দেয়া উচিত।” মাহবুবুর রহমান বলেন, “এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়ী। আমাদের কোস্টগার্ড আছে। যারা দায়িত্ব নিয়োজিত তাদের ব্যর্থতাও দায়ী। এ দুষ্টচক্রের পরিচয় বের করতে হবে।” মতিয়া চৌধুরী বলেন, “মানবপাচার নতুন ঘটনা নয়। আগে বেসরকারিভাবে বিদেশে লোকজন পাঠানো হতো। এখন সরকারিভাবে পাঠানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দিয়েই লোকজন পাঠানো হচ্ছে। মানবপাচারের জন্য সরকার দায়ী নয়। এখানে রোহিঙ্গারা একটি ফ্যাক্ট। রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশে না গিয়ে অন্যত্র যেতে চায়।” দুষ্টচক্রদের কেন সনাক্ত কেন করা হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলছি না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি সফল। শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয় সোচ্চার। তারা মানবপাচার বন্ধে কাজ করছেন।” অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন। বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন এবং বিবিসি বাংলার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিষয়ে দর্শকরা সরাসরি প্যানেল সদস্যেদর কাছে প্রশ্ন বা মতামত প্রকাশ করতে পারেন।

You Might Also Like