হোম » সব সরকারের আমলেই আমাকে টার্গেট করে বোমা, গ্রেনেড হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে : শেখ হাসিনা

সব সরকারের আমলেই আমাকে টার্গেট করে বোমা, গ্রেনেড হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে : শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস- Monday, August 21st, 2017

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘সব সরকারের আমলেই আমাকে টার্গেট করে বোমা, গ্রেনেড হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে।’

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। ১৩ বছর আগে ২০০৪ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রেনেড ও গুলিতে সেদিন প্রাণ হারায় ২৪ জন, আহত হয় শতাধিক নেতা-কর্মী।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দিন শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা ছিলেন বিদেশে। আর এই হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে দেশে ফেরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনার ওপর ১৯ বার হামলা হয়েছে। তার তাকে বাঁচাতে প্রাণ দিয়েছেন অন্তত ৬০ জন নেতা-কর্মী। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে রবিবার দুটি মামলায় ১০ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। বাকি মামলার মধ্যে একটি এখনও রয়েছে তদন্তের পর্যায়ে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে একটি মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদক দিয়ে শেষ করে দিয়েছে। তখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া আরেকটি মামলা আদালতের নির্দেশে আবার তদন্ত শুরু হয়েছে। বাকিগুলো বিচারাধীন রয়েছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে দুটি, ১৯৯১ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে চারটি, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে চারটি, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে চারটি, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একটি এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান আমলে চারটি হত্যা চেষ্টার কথা জানা যায়।

এসব হামলার প্রথমটি হয় ১৯৮৮ সালে। তখন ক্ষমতায় জাতীয় পার্টি। ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আটদলীয় জোটের জনসভায় যাওয়ার আগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনার ট্রাক মিছিলে সশস্ত্র হামলা হয়। চট্টগ্রাম আদালত ভবনের পাশে পুলিশ নির্বিচারে গুলি ছুড়লে নিহত হন ২৪ জন। তাদের মধ্যে নয় জনের মতো নিহত হন শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করতে গিয়ে।

মন্ত্রিসভায় আলোচনার এক পর্যায়ে পানি সম্পদমন্ত্রী জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলী আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ঈঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওনাদের আমলেও চট্টগ্রামে জনসভায় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল এবং ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হন।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় সে সময়ের সরকার জড়িত বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় তিনি বলেন, ‘২১ আগস্টের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আরেকটি ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটবে। একথা বলার কিছুদিন পরেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।’

বৈঠকে ২১ আগস্টে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এ ঘটনায় শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।