শীতে কাঁপছে আমেরিকা বাংলাদেশ : সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

নিউ ইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকা ও  বাংলাদেশের ওপর দিয়ে একই সময়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এতে জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। কোনো জরুরি কাজ না থাকলে কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের দিনমজুর-খেটে খাওয়া মানুষেরা। ৮ জানুয়ারী সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ২ দশমিক ০৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

এ দিকে নিউ ইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল অচল করার পর এখন পূর্বাঞ্চলকে গ্রাস করেছে তীব্র শীত। দুই দশকের রেকর্ড ভাঙ্গা মেরু থেকে বয়ে আসা নিম্ন তাপমাত্রার তীব্র শৈত্যপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের গত কয়েকদিন ধরেই বিরাজ করছে এবং তা পূর্বদিকে বিস্তৃত হয়। এতে মারা গেছে ৯ জন। উত্তর আমেরিকায় তাপমাত্রা এ যাবত্কালের সর্বনিম্ন। তবে আজ সোমবার থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি রাজ্যেই বরফশীতল তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমনকি মৃদমন্দ আবহাওয়ার ফ্লোরিডাও এ থেকে রেহাই পায়নি। মেরুঘূর্ণিসুলভ এ তীব্র শীতে দেশজুড়ে সোম ও মঙ্গল দুইদিনে অন্তত ৯ জন মারা যাওয়ার খবর এসেছে। বিমান, রাস্তা-ঘাট, ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ১৯ কোটি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রেও প্রায় অর্ধেক জনগণকে এই বিপজ্জনক শীত সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মিনেপোলিস এবং শিকাগোয় মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রাখা হয় স্কুল। তবে বুধবার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেয় শিকাগো কর্তৃপক্ষ। ক্লেভল্যান্ডে সোমবার ১৩০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে তাপমাত্রা দাঁড়ায় মাইনাস ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দক্ষিণের তুলনামূলক উষ্ণ আটলান্টায়ও ৪৪ বছরের মধ্যে রেকর্ড নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে মাইনাস ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফ্লোরিডার উত্তরাঞ্চলে তামপাত্রাও শূন্যের কিছুটা নিচে নেমেছে। প্রচণ্ড শীতে মারা যাওয়াদের মধ্যে জর্জিয়ায় ৫১ বছর বয়স্ক এক গৃহহীন মানুষের দেহ খুঁজে পাওয়া গেছে। ম্যাসাচুসেটস এর ওয়েস্টারপোর্টে মঙ্গলবার পাওয়া গেছে আরো দুইজনের লাশ। কলোরাডোয় তুষারধসে একটি স্কি রিসোর্টে মারা গেছে আরেকজন। বরফচাপা পড়া আরো তিনজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এর আগে সোমবার শিকাগোর আশেপাশের এলাকায় এবং ইন্ডিয়ানাপোলিসে শীতে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা রাতারাতি ১৪ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় আর্কটিক অঞ্চলের মতো নিম্ন (মাইনাস ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রা বিরাজ করছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আলাবামা, জর্জিয়া, টেনিসি, আরকানসাস, মিশিগান, মেরিল্যান্ড, ওহাইও, পেনসেলভানিয়া এবং নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন রাজ্যে তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। হেল, মিশিগানের মতো ছোট্ট শহরেও তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে মিনেসোটায় মাইনাস ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান শহরগুলোর মধ্যে শিকাগোয় তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ডেট্রয়েটে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পিটসবার্গে মাইনাস ১৫ ডিগ্রি, ওয়াশিংটনে মাইনাস ৭ ডিগ্রি এবং বোস্টনে মাইনাস ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চরম আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবারও প্রায় ২ হাজার ৭শ’ টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। রেললাইন বরফে ঢাকা পড়ার কারণে উত্তর ইলিনয়ে রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আটকা পড়ে শিকাগোগামী ৫শ’রও বেশি যাত্রী।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস বলছে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়াতে। আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেছেন, তেতুলিয়াতে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছেন তারা। এর আগে সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিলো ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে আর সেটি ছিলো ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই খবর বিবিসির।

তবে স্বস্তির খবর হলো মঙ্গলবার থেকে এই অবস্থা অনেকটাই কেটে যাবে। আবহাওয়া অফিসের মতে, এদিন থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে অর্থাৎ শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে যাবে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, শ্রীমঙ্গলসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে এবং আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত হতে পারে। এছাড়াও সোমবার দিন ও রাতের তাপমাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

সোমবার সকালে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, ৯ জানুয়ারির পর শৈত্যপ্রবাহ কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ১০ তারিখের দিকে শীতের অনুভূতি কমবে। তবে পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই শীত অনুভূতি থাকবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া অঞ্চলের উপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল ও সীতাকুণ্ডসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগ এবং রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্ট অংশের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি জানুয়ারি মাসেই একটি তীব্র ও দুটি মৃদু অর্থাৎ তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জানুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তীব্র (৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবংঅন্যত্র ১-২টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে সার্বিকভাবে এ মাসের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।

তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রির নিচে নেমে এসেছে

সারা দেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর ও ডিমলা উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ২ দশমিক ০৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

এছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুর ও ডিমলায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আর ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোমবার সকালে অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সৈয়দপুর ও ডিমলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দেশে আরও দু-এক দিন এমন পরিস্থিতি থাকবে। এরপর থেকে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

রবিবার দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি ৮.৬, ৫ জানুয়ারি ৯.৪, ৬ জানুয়ারি ৯.৪, ৭ জানুয়ারি ৭.৬ ছিলো। এই তাপমাত্রা আরো কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। তিনি আরো জানান, উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে এখন শৈতপ্রবাহ চলছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস এবং দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা থাকতে পারে।

এদিকে গত কয়েকদিনের তীব্র ঠাণ্ডা ঘন কুয়াশার কারণে ইতোমধ্যে নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সড়ক- আঞ্চলিক মহাসড়কে গাড়ির হেড লাইট জালিয়ে ধীর গতিতে চলতে দেখা গেছে।

উত্তরাঞ্চল কাঁপছে, রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫.৮

রাজশাহীসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে বইছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। শনিবার ভোর ৬টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে সপ্তাহ জুড়েই তাপমাত্রা কমছে। গত ১ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওইদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সকাল থেকে সূর্য থাকলে হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা রয়েছে। এতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ। বিশেষ করে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষগুলোর পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তীব্র শীত থেকে রক্ষা পেতে সকালে পথের ধারে খড়-কুটায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে ছিন্নমূল মানুষদের।

রামেকে ৪ শিশুর মৃত্যু

কনকনে ঠান্ডায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়েছে শীতজনিত রোগির সংখ্যা। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে শীতজনিত রোগি ভর্তির তালিকা। এসব রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশী।

এছাড়াও বহির্বিভাগেও বেড়েছে শীতজনিত শিশু রোগি। গত শনিবার শীতেজনতি রোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার শিশু মৃত্যু হয়েছে। রবিবার রামেক হাসপাতালের জরুরী ও বহির্বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ ছানাউল হক জানান বেশির ভাগ শিশুই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। শুধু গত ৬ জানুয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে চারজন শিশু। এরা সবাই নবজাতক। তারা নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছিল।

তারা হলো, রাজশাহীর পুঠিয়া থেকে আসা আবু হানিফের চারদিন বয়সী শিশুকন্যা, পাবনার চাটমোহর থেকে আসা শিমুল ইসলামের আড়াই মাস বয়সী শিশু পিয়াস, নাটোরের শাহজাহানের তিনদিন শিশুকন্যা এবং নওগাঁর মান্দার সুশীল প্রামানিকের দুই দিন বয়সী শিশু।

হাসপাতারের জরুরী বিভাগের ইনচার্জ ডাঃ এম এ জলিল এবং বর্হিবিভাগের ইনচার্জ নূরুল ইসলাম জানান, গত ৩ জানুয়ারী থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যা ২৭১ জন। আর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ৬৬৭ জন শিশু।

হাসপাতালে ভর্তিকৃত শিশুদের মধ্যে গত ৩ জানুয়ারী ৮২ জন, ৪ ও ৫ জানুয়ারী ১০৮ জন এবং ৬ জানুয়ারী ভর্তি হয় ৫২ জন। আর বহির্বিভাগে ৩ জানুয়ারী ১৯৮ জন, ৪ ও ৫ জানুয়ারী ১৬০ জন, ৬ জানুয়ারী ১৭৪ এবং ৭ জানুয়ারী রোববার দুপুর ১ টা পর্যন্ত ১৩৫ জন শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

হাসপালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার প্রবাসী আব্দুস সামাদের স্ত্রী জিনিয়া বেগমের জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ২ মাস ১০ দিনের শিশু জিসানকে নিয়ে আছেন ওই ওয়ার্ডে। শিশুটি নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছে, তবে এখন আগের তুলনায় সুস্থ্য আছে বলে জানান তিনি।

You Might Also Like