শিক্ষিকা পেটানোয় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

বাগেরহাটের রামপালে শিক্ষিকাকে মারপিটের ঘটনার মামলায় রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পেড়িখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বাবুলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বাবুল উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাগেরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে গেলে আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জামিন না মুঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী বড়কাটালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনকে ভোটার তালিকার কাজে বাধা দান ও মারপিট করে। এতে তাকে গুরুতর আহত করেন পেড়িখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বাবুল। ওই সময়ে ইয়াসমিনের স্বামী রফিকুল ইসলাম খোকন ঠেকাতে গেলে তাকেও মেরে গুরুতর আহত করেন চেয়ারম্যান। ওই ঘটনায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গত ১০ জুলাই রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলাটি প্রথমে রামপাল থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন তদন্ত করছিলেন। তার তদন্ত কাজে গাফলতি ও বাদীকে সহায়তা না করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অব্যাহতি প্রদানের নির্দেশ দেন। পরে মামলাটি বাগেরহাট ডিবি পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বাবুল সম্প্রতি সমাজ সেবার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬টি পদক লাভ করেন। ওই পদক প্রাপ্তিতে পেড়িখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আগামী ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার এক সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রামপাল মংলার সংসদ সদস্য তালুকদার আ. খালেকের।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান জেল হাজতে যাওয়ার ঘটনায় বাদী রফিকুল ইসলাম খোকন আদালত চত্ত্বরে চেয়ারম্যানের লোক জনের দ্বারা অবরুদ্ধ হন। পরে বাগেরহাট ডিবি পুলিশ একটি টিম তাকে উদ্ধার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয় যান।

রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

ইউপি চেয়াম্যান আটকের ঘটনায় তার নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পেড়িখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

You Might Also Like