শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে সবাই সমানভাবেই শান্তিতে বসবাস করবে। বাঙালি-পাহাড়ি সবাই মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আজ (রোববার) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণভাবে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে আসীন হোক। কে পাহাড়ি কে বাঙালি এটা বিবেচ্য নয়, আমরা চাই পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকুক। সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করুক।

উল্লেখ্য, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার পৃথক ঘটনায় রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা এবং ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমাসহ ছ’জনের খুনের ঘটনায় পাহাড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ।

পার্বত্য অঞ্চলের আধিবাসীরা জানান, তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এলাকা এখন সশস্ত্র চারটি গ্রুপের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। শান্তি চুক্তির পর এ পর্যন্ত ২১ বছরে সশস্ত্র গ্রুপের দ্বন্দ্বে ৮ শতাধিক খুন হয়েছে। আর গুম হয়েছে ১৫শ’র মত মানুষ। গুম হওয়াদের মধ্যে অধিকাংশ মুক্তিপণের টাকা দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে।

তবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলে যোগদান করা নিয়ে নতুন করে পাহাড়ে অশান্ত পরিস্থিতি উদ্ভব হওয়ার খবর আসছে। এদিকে, পার্বত্য অধিকার ফোরাম এবং পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের ডাকে খাগড়াছড়ি জেলায় আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে। একই সাথে, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের ডাকে আজ রোববার তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

তাছাড়া,পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ কাল সোম ও পরশু মঙ্গলবার তিন পার্বত্য জেলায় ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে। এদিকে, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর জানান, পাহাড়ি দুই আঞ্চলিক দলের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতাসহ ছয়জনের মৃত্যুতে আজ সকাল পর্যন্ত তাদের পরিবার কিংবা দলের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

You Might Also Like