শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেবে : খন্দকার মাহবুব

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিএনপি যে ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’ করছে, তা একসময় ‘গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেবে’ বলে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন দলটির নেতা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল’ নামের সংগঠন।

খন্দকার মাহবুব বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটানো হবে। বাংলাদেশের মানুষেরও ধৈর্য্যের সীমা রয়েছে। আমাদের এ শান্তিপ্রিয় আন্দোলন পর্যায়ক্রমে গণআন্দোলনে রূপ নেবে, অতীতে যা হয়েছে।

‘স্বৈরাচারী সরকার কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে যায় না। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই তাদের পতন ঘটাতে হয়েছে। এবারও তাই হবে’, বলেন বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান।

বিএনপির হরতালের মতো কর্মসূচি দিলে ক্ষমতাসীনরা অরাজকতা সৃষ্টি করে এর দায়ভার দলটির ওপর দিতো বলে দাবি করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

‘আজকে যদি আমরা মিছিল করতাম, হরতাল দিতাম, তাহলে সরকারি বাহিনী মিছিলে ঢুকে গাড়ি পোড়াতো, পেট্রোল বোমা মারত, অতীতে যা হয়েছে। সেই কারণেই আমরা অত্যন্ত সচেতনভাবে দেশে যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় তাই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি,’ বলেন প্রবীণ এই আইনজীবী।

তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এ নয় যে, বিএনপির আন্দোলন করার ক্ষমতা নাই। আমরা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে আন্দোলনে আছি, থাকব। কিন্তু সরকারের ফাঁদে পা দেব না।’

দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া ‘সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন’ বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি আরো বলেন, ‘আদালতের রায় এসেছে সম্প্রতি। কিন্তু আগে থেকেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে প্রচারণা করেছে, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন, দুর্নীতি করেছেন। আর রায় এ প্রচারণার প্রতিফলন।’

রোববার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হবে, জানিয়ে তার এই আইনজীবী বলেন, ‘দেশে যদি আইনের শাসন লেশমাত্র থাকে তাহলে তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্তি পাবেন, জামিন পাবেন। তিনি ফিরে এসে যেকোনো সময় যদি আন্দোলনের ডাক দেন তখন কিন্তু আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। সেই রাস্তায় নামাটাই হবে শেষ নামা।’

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম সিদ্দিক, শিক্ষকনেতা জাকির হোসেন, ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনে’র সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

You Might Also Like