হোম » লেবাননেও অর্থনৈতিক অবরোধ চাইছে সৌদি আরব!

লেবাননেও অর্থনৈতিক অবরোধ চাইছে সৌদি আরব!

ঢাকা অফিস- Tuesday, November 14th, 2017

অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে কাতারকে যেভাবে কোণঠাঁস করার চেষ্টা করেছে, একই কায়দায় লেবাননের বিরুদ্ধেও তা করতে চাইছে সৌদি আরব।

লেবাননের রাজনীতিক ও ব্যাংকাররা এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন, তাদের কথা অনুযায়ী না চললে সৌদি আরব তার অনুসারীদের নিয়ে হয়তো সে পথেই হাঁটবে। তা যদি হয়, তাহলে লেবাননের অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী কাতার। দেশটিতে জনসংখ্যা মাত্রা ৩ লাখের মতো। সৌদি আরবের নেতৃত্বে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ চাপিয়ে দিলেও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে তারা ধকল শামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে। কিন্তু লেবাননের না আছে প্রাকৃতি সম্পদ, না আছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এ অবস্থায় সৌদি আরবের সম্ভাব্য অবরোধ নিয়ে দেশটির লোকজন আতঙ্কে আছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে লেবাননের প্রায় ৪ লাখ লোক কাজ করে। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার (রেমিট্যান্স) ওপর দেশটির অর্থনীতি বেশ খানিকটা নির্ভরশীল। প্রবাসী লেবানিজরা বছরে প্রায় ৭০০-৮০০ কোটি ডলার পাঠায়। ঋণগ্রস্ত লেবানন সরকার ও তাদের আর্থিক ব্যবস্থাকে চাঙ্গা রাখে এই অর্থ।

একজন জ্যেষ্ঠ লেবানিজ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘লেবাননের অর্থনীতি এমনিতেই মারাত্মক হুমকির মুখে আছে, যা এরই মধ্যে চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। এখন তারা যদি রেমিট্যান্স স্থানান্তর বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিপর্যয় ঘটবে।’

সৌদি আরবে গিয়ে ৪ নভেম্বর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। লেবাননের কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের দাবি, সৌদি আরব তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। সাদ হারিরি সৌদি আরবের পক্ষে কথা বলছেন।

প্রায় আট দিন চুপচাপ থাকার পর রোববার লেবাননের একটি টেলিভিশনে কথা বলেন সাদ হারিরি। তাকে সৌদি আরবে আটকে রাখার যে অভিযো উঠেছিল, তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। সাদ হারিরি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, আরব নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে লেবানন। যদি তাই হয়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবাসী লেবানিজরা জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম সংকটে পড়বে।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স অনলাইন