লতিফ সিদ্দিকীর বিচারে সরকারের অনুমতি লাগবে

কারাগারে থাকা সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘতের অভিযোগে বিচার করতে হলে সরকারের অনুমতি লাগবে বলে জানিয়েছেন মামলায় বাদী অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা।

বিদেশের মাটিতে বসে কোন অপরাধ করলে তার বিচার বাংলাদেশের আদালতে করার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারার বিধান অনুযায়ী এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘতের অভিযোগে দন্ডবিধির ২৯৫(ক) ধারার মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকারের অনুমতি লাগবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, বিদেশে কোন অপরাধের জন্য বাংলাদেশের আদালতে বিচারের জন্য সরকারের অনুমতি গ্রহণের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে উল্লখ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রাজা বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ঢাকা সিএমএম আদালতেই ৭টি মামলা রয়েছে। সারা দেশে হয়েছে ১৮টি মামলা। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ২৯৫(ক), ২৯৮ এবং ৫০০ ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তার মামলাটি ২৯৫(ক) ধারায় দায়ের করা। ২৯৫(ক) ধারায় অভিযোগ আমলে নেয়ার বিষয়ে সরকারের অনুমতি নেওয়া সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, সরকার বা সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন অফিসারের আদেশ বা কর্তৃত্ববলে দায়েরকৃত মামলা ছাড়া কোন আদালত দন্ডবিধির ৬ বা ৯(ক) ধারার অধীন দন্ডনীয় ২৯৫(ক) ধারার অপরাধ আমলে আনিবেন না। যেহেতু লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মামলগুলো কোন সরকারি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যাক্তি করেনি তাই সরকারের অনুমতি ছাড়া মামলাগুলো চলবে না।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বাইরে সংঘঠিত কোন অপরাধের বিচার বাংলাদেশ করা প্রসঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন বাংলাদেশের কোন নাগরিক বাংলাদেশের সীমার বাইরে কোন স্থানে কোন অপরাধ করে, অথবা যখন কোন ব্যাক্তি বাংলাদেশে রেজিস্ট্রিকৃত কোন জাহাজ বা উড়োজাহাজে, তা যেখানে থাকুক না কেন, কোন অপরাধ করে; তখন বাংলাদেশের যে স্থানে তাকে পাওয়া যাবে সে স্থানে অপরাধটি করেছে বলে ধরে নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা যাবে। তবে সরকারের অনুমতি ছাড়া এরূপ অপরাদ সম্পর্কিত কোন অভিযোগের অনুসন্ধান বাংলাদেশে হবে না।

লতিফ সিদ্দিকী যেহেতু বাংলাদেশের বাইরে অপরাধ করেছে তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারায় বিধান মতে দন্ডবিধির ২৯৫(ক) কিংবা ২৯৮ বা ৫০০ ধারা বা যে ধারায়ই মামলা হোক সরকারে অনুমতি ছাড়া ওই মামলা চলবে না।

তিনি আরও জানান, ওই কারণে তিনি রবিবার ঢাকা সিএমএম আদালতে সরকারের অনুমতির জন্য আদালতে আবেদনও করেছেন। যদিও আগামী ১৫ মার্চ ওই আবেদনের শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

তিনি জানান, সরকার তার এই মামলায় অনুমতি না দিয়েও সরকার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সরকারী অফিসারকে দিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর মামলা করে তার বিচার করতে পারেন।

You Might Also Like