লকডাউনে ৭৩ দিন বিমানবন্দরে বন্দি ছিলেন সেই ফুটবলার

ভারতে খেলতে এসে টানা ৭৩ দিন মুম্বাই বিমানবন্দরেই বন্দিজীবন কাটিয়েছেন আফ্রিকার দেশ ঘানার এক ফুটবলার। ২৩ বছর বয়সী এ ফুটবলারের নাম র‌্যান্ডি জুয়ান মুলার।

করোনা পরিস্থিতিতে ভারতে চলমান লকডাউন ও আর্ন্তজাতিক সব ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে বিমানবন্দরেই প্রায় দুঃসহ আড়াই মাস পার করতে হয় এ ফুটবলারকে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, গত বছর নভেম্বর মাসে কেরালার ওআরপিসি স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলতে ছয় মাসের ভিসা নিয়ে ভারতে আসেন মুলার। কিন্তু লকডাউন শুরুর পর দ্রুতই দেশে ফিরতে যাচ্ছিলেন তিনি। টিকিট কেটেছিলেন কেনিয়ার। সেখান থেকে স্বদেশ ঘানায় পৌঁছবেন। কিন্তু হঠাৎকরেই করোনা সংক্রমণ রুখতে ভারত আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট বিমান বাতিল করে দিলে মুলার আর দেশে ফিরতে পারেননি। এদিকে লকডাউনের কারণে বিমানবন্দরও ছাড়তে পারেননি তিনি। বিমানবন্দরেই আটকা পড়েন। টানা ৭৩ দিন সেখানেই গোসল, কাপড় ধোয়া, নাওয়া-খাওয়া সব কাজ করতে হয়েছে তাকে।

দুঃসহ সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে র্যা ন্ডিজুয়ান মুলার বলেন, ম্যাচপ্রতি ২-৩ হাজার রুপি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে প্রায় কোনো ম্যাচই খেলতে পারিনি। অথচ ভারতে আসার ভিসা ও টিকিট মিলিয়ে দেড় লাখ রুপি খরচ হয়ে যায়। গত ৩০ মার্চ কেনিয়া হয়ে ঘানায় পৌঁছনোর বিমান টিকিট করা ছিল আমার। কিন্তু দেশে আর ফিরে যেতে পারিনি সেদিন। এদিকে হাতের টাকাও শেষ হয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, এই ৭২ দিনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাকে টুকটাক খেতে দিয়েছে। কিছু টাকাও দিয়েছে তারা। এই সময়ের মধ্যে কিছু যাত্রীর থেকে বই উপহার পেয়েছি। সেগুলো পড়ে আর বিমানবন্দরে ঘুরে দিন কেটেছে আমার। আমার অবস্থা স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘দ্য টার্মিনাল’ সিনেমার মূল চরিত্র টম হ্যাংকসের মতো হয়ে গিয়েছিল।

বিমানবন্দরে নিজের শোচনীয় অবস্থার কথা জানিয়ে একদিন টুইট করেন মুলার। বিষয়টি মহারাষ্ট্রের পর্যটনমন্ত্রী আদিত্য ঠাকরের নজরে এলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান মুলার।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়া টুডে

You Might Also Like