রোয়ানু’র প্রভাবে নিহত ২৫, জনজীবন বিপর্যস্ত

বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানায় উপকূলীয় জেলা ভোলা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে অন্তত: ২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ জন, কক্সবাজারে ৩ জন, নোয়াখালীতে ৩ জন, লক্ষ্মীপুরে ১ জন, ফেনীতে ১ জন, ভোলায় ৪ জন ও পটুয়াখালীতে ১ জন নিহত হন। এছাড়া উপকূলীয় ১৮ জেলায় নানাভাবে আহত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩০ জন। ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় জেলা সমূহে অসংখ্য ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি মূলত শুক্রবার মাঝরাতে পটুয়াখালী উপকূলে আঘাত হানে। শনিবার দুপুরের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম, ভোলা ও বরিশাল অতিক্রম করে।

ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার দুপুর নাগাদ গতিপথ পরিবর্তন করে মিয়ানমার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে ক্রমশ: দুর্বল হয়ে যায়। এর প্রভাবে, উপকূল অঞ্চলসহ সারা দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে।

ঘুর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ছয়-সাত ফুট উচ্চতায় বৃদ্ধি পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে।

ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হয়েছে। তাছাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পর্যটকরা গতকালকেই কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন।

এদিকে উপকূলীয় জেলা বরগুনার স্থানীয় সাংবাদিক হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সেখানে প্রাণহানির খবর নেই তবে অধিক উচ্চতার জোয়ারের তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে বরগুনা সদর, তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলার ১২টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে এসব এলাকার ৪৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে দেড় লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয়।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভোলায় মেঘনা নদীতে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে দুইটি বালুবাহী কার্গো জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজ দুটির ৬ শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন।

এদিকে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া শনিবার সকালে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তার মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে ৫ লাখ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেয়াদের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি চলতে থাকে। বিকাল নাগাদ মেঘ কেটে গিয়ে রোদ দেখা দেয়।

আগামীকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত আবহাওয়ার খবরে বলা হয়েছে- ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। -রেডিও তেহরান

You Might Also Like