রোহিঙ্গা’ নয়, শুমারিতে তারা ‘মিয়ানমারের নাগরিক’

মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পার হয়ে এসে যারা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বসবাস করছে – তাদের বোঝাতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিকে আর ব্যবহার করতে চাইছে না, বরং বেশ সচেতনভাবেই তাদের ‘মিয়ানমারের নাগরিক’ বলে বর্ণনা করছে।
বাংলাদেশে ‘অনিবন্ধিত মিয়ানমারের নাগরিকদের’ সংখ্যা নিরুপণের জন্য সরকার যে শুমারী পরিচালনা করেছে – সে সম্পর্কে সোমবার ঢাকায় বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকদের অবহিত করেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক। মি. হক এবং বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তাদের কথায় দেখা গেছে, তারা বার বার ‘মিয়ানমারের নাগরিক’ কথাটি ব্যবহার করছেন।
এই শুমারিতে বাংলাদেশ সচেতনভাবেই রোহিঙ্গা শব্দটিকে বাদ দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই প্রকল্পের নামকরণও হয়েছে ‘অনিবন্ধিত মিয়ানমারের নাগরিক শুমারি।’
বিশ্লেষকরা মনে করেন, মিয়ানমার যেহেতু রোহিঙ্গাদের স্বীকার করতে চায় না, সেজন্য এ শব্দটি বাদ দিয়ে বাংলাদেশ ভিন্নভাবে আলোচনা শুরু করতে চায়।
“রোহিঙ্গা শব্দটির বিভিন্নভাবে রাজনীতিকীকরণ হয়েছে” -বলছিলেন অভিবাসন বিষয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারী সংস্থা রামরুর অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সরকার হয়তো চাইছেন ‘এথনিক’ বা জাতিগত পরিচয়সূচক শব্দটি ব্যবহার না করে তারা যে মিয়ানমারের নাগরিক – এই অধিকারটাই তারা তুলে ধরছেন।
অধ্যাপক সিদ্দিকী মনে করেন, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি বাদ দিলে মিয়ানমারের সাথে হয়তো আলোচনা করা সহজ হবে।
rohinga1
মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত অনুপ কুমার চাকমা এ ব্যাপারে বিবিসি বাংলাকে বলেন, মিয়ানমার নিজেও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করতে চায় না। সেদেশের ১৩৫টি এথিনিক গ্রুপ আছে -তার মধ্যেও তারা রোহিঙ্গাদের তালিকাভুক্ত করে নি।
মি. চাকমা বলেন, মিয়ানমার তাদেরকে বলতে চাচ্ছে ‘বাঙালি’ হিসেবে – যারা বেঙ্গল থেকে ওখানে গেছে।
“এই টার্মটা নিয়ে অসুবিধে হচ্ছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুকাল আগে বলেছেন রোহিঙ্গা শব্দটা ব্যবহার না করতে। আমরাও তাদের বলি বাঙালি শব্দটা ব্যবহার না করতে। আমরা এটাই প্রতিষ্ঠা করতে চাই যে তারা মিয়ানমারের নাগরিক, এবং তারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবেই ফেরৎ যাবে” – বলেন অনুপ কুমার চাকমা।
রোহিঙ্গা শুমারির মাধ্যমে সংখ্যা নির্ণয়ের পর সরকার কী করবে – সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এ শুমারীর প্রতিবেদন সরকার মিয়ানমারের কাছে তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র সচিব এমন এক সময়ে কূটনীতিকদের বিষয়টি নিয়ে অবহিত করলেন, যার কিছুদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে তার মিয়ানমার যাবার কথা রয়েছে।
rohinga2
সরকার বলছে, আসছে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিক- যারা রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত- তাদের প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিরুপণ করা সম্ভব হবে।
কূটনীতিকদের তরফ থেকে এ জরিপের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তা।
কোন পদ্ধতিতে এ জরিপ করা হয়েছে সে বিষয়টি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেন এ ধরনের জরিপ বিষয়ে জাতিসংঘের অনুসৃত যে আন্তর্জাতিক নিয়ম রয়েছে, সেটি মেনেই করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ছয়টি জেলা – কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম এবং পটুয়াখালিতে এ শুমারী চালানো হয়েছে।
বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর আওতাধীন এ প্রকল্পের পরিচালক মো: আলমগীর হোসনে বলেন সপ্তাহখানেক আগে জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। এখন সেগুলো ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এরপর বিশ্নেষণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। সূত্র-বিবিসি বাংলা

You Might Also Like