হোম » রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা দেখতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ঢাকায়

রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা দেখতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ঢাকায়

ঢাকা অফিস- Saturday, January 27th, 2018

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা আর অত্যাচারে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা দেখতে দু’দিনের সফরে শনিবার বিকেলে ঢাকায় এসেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। সফরকালে রোববার তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সফরকালে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং মিয়ানমারে তাদের ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের কথা শুনবেন। লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও জরুরি সহায়তা দিয়ে যে ভূমিকা বাংলাদেশ রেখেছে, তার প্রতি সংহতি জানিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদিকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট উইদোদো।
কক্সবাজার রওনা হওয়ার আগে রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন উইদোদো। বৈঠক শেষে ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির একটি চুক্তি হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার পরিসংখ্যান দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দু’দেশের মধ্যে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। যেখানে ইন্দোনেশিয়ার রফতানির পরিমাণই ছিল ১.১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো গতকাল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা আর তোপধ্বনির উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় তার সঙ্গে ফার্স্ট লেডি ইরিয়ানা জোকো উইদোদোও ছিলেন। বিমানবন্দরে উইদোদোকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম। বিমান থেকে নেমে আসার সময় ২১ বার তোপধ্বনিতে তাদের স্বাগত জানানো হয়। দু’টি শিশু ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও ফার্স্ট লেডিকে।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে মঞ্চে আসার পর দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। পরে সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো গার্ড পরিদর্শন করেন। গার্ড পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে পরিচিত হন উইদোদো। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, তিন বাহিনীর প্রধান, ঢাকায় ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ জর্জ কোচেরি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট উইদোদোর সম্মানে শনিবার সন্ধ্যায় নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। ভোজের আগে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী তার সঙ্গে হোটেলে প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেন।
রোববার উইদোদো কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন। তার আগে দিনের শুরুতে সাভার স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। কক্সবাজার যাওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। সফর শেষে সোমবার সকালেই তিনি আফগানিস্তানের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়ে যাবেন।