হোম » মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার ভয়ঙ্কর চিত্র জাতিসংঘের প্রতিবেদনে

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার ভয়ঙ্কর চিত্র জাতিসংঘের প্রতিবেদনে

admin- Friday, February 3rd, 2017

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী বহু অপরাধ করেছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয় থেকে শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়ন ও সহিংসতার ভয়ঙ্কর সব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ২০৪ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জাতিসংঘ রিপোর্টটি প্রস্তুত করেছে।

রাখাইন রাজ্যে ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়, ‘এলাকা নির্মূল অভিযানে কয়েকশ’ মানুষ নিহত হওয়ার ধারণা করা যায়।’ এতে আরো বলা হয়, সম্ভাবনা অনেক বেশি যে, মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বিভীষিকাময় দমন-পীড়নের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি মিয়ানমারের অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক যোদ্ধারা এসব নির্যাতন চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৮ মাস বয়সী এক শিশুকে হত্যার পাশাপশি তার মাকে গণধর্ষণ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ৫ সদস্য।

জাতিসংঘ আরো বলেছে, তাদের কাছে ৬ বছরেরও কম বয়সী তিন শিশুকে ছুরি দিয়ে হত্যা করার রিপোর্ট আছে। এর মধ্যে একজনের বয়স ৫। মেয়েটির মা জানান, তার ছোট্ট মেয়েটি তাকে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গেলে এক ব্যক্তি বড় একটি ছুরি দিয়ে গলা কেটে মেয়েটিকে হত্যা করে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ বিন রা’দ জেইদ আল হুসেইন এক বিবৃতিতে বলেন, রোহিঙ্গা শিশুদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তা অবর্ণনীয়। যেসব এলাকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযান শেষ করেছে, সেই সব এলাকায় শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কোন ধরনের ঘৃণা একজন মানুষকে মায়ের দুধের জন্য কাঁদতে থাকা শিশুকে ছুরিকাঘাত করাতে পারে? আর ওই মাকে নিজ চোখে কোলের শিশুকে হত্যার দৃশ্য দেখতে হচ্ছে, যখন তাকে গণধর্ষণ করছে সেই নিরাপত্তা বাহিনী, যাদের কিনা তাকে সুরক্ষা দেয়ার কথা। এটা কী ধরনের নির্মূল অভিযান? এতে জাতীয় নিরাপত্তার কোন লক্ষ্যমাত্রা উদ্ধার হতে পারে?’ জেইদ আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের নেতৃত্বকে এমন সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানাতে আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাচ্ছি তাদের সর্বশক্তি নিয়ে আমার সঙ্গে যোগ দিতে। এসব অভিযোগের গভীরতা আর মাত্রা বিশ্ব সম্প্রদায়ের তরফে বলিষ্ঠ প্রতিক্রিয়ার দাবি রাখে।’

জাতিসংঘের সাক্ষাৎকার নেয়া ৪৭ শতাংশ ব্যক্তি বলেছেন, তাদের পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য এ অভিযানে নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের সঙ্গে কথা বলা ২০৪ জনের বেশিরভাগই হত্যাযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করার কথা জানিয়েছেন। ২০৪ জনের মধ্যে ১০১ জন ছিলেন নারী। এদের অর্ধেকের বেশি ধর্ষণের শিকার বা অন্য ধরনের যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা বলেছেন।

তবে মিয়ানমার সরকার তাদের নিজস্ব তদন্তে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর গণহত্যা চালানোর প্রচারণার কথা অস্বীকার করেছে। শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সূ চি নেতৃত্বাধীন সরকার বলছে, এসব অভিযোগ বানোয়াট। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক ক্রমবর্ধমান চাপ ঠেকানোর চেষ্টা করেছে সরকার।

মিয়ানমার সকারের দাবি প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা জেইদ বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি বারবার এমন অস্বীকৃতি না জানিয়ে মিয়ানমার সরকারকে অবিলম্বে নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে এসব গর্হিত মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে।’

গত ৯ অক্টোবর সীমান্ত চৌকিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হয়েছিল। এর পরপরই ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের আবাস রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

সর্বশেষ সংবাদ