রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারাল শ্রীলঙ্কা

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পরও পুঁজিটা খুব একটা বড় ছিল না। তবে দারুণ বোলিংয়ে সেটাকেই যথেষ্ট প্রমাণ করলেন লাসিথ মালিঙ্গা ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। বেন স্টোকসের ব্যাটিং বীরত্বের পরও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারাল শ্রীলঙ্কা।

লিডসের হেডিংলিতে শুক্রবার ২০ রানে জিতেছে দিমুথ করুনারত্নের দল। ২৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৪৭ ওভারে ২১২ রানে থামে ইংল্যান্ড।

মন্থর শুরু করা শ্রীলঙ্কাকে লড়াই করার মতো একটা সংগ্রহ এনে দেওয়ায় সবচেয়ে বড় অবদান ম্যাথিউসের। তার অপরাজিত ৮৫ রানের ওপর ভর করে ৯ উইকেটে ২৩২ রান করে শ্রীলঙ্কা।

শেষে লড়াইটা যেন ছিল শ্রীলঙ্কা বনাম স্টোকসের। সেখানে অপরাজিত ইংলিশ অলরাউন্ডার। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে তাকে ফিরতে হল হারের বেদনা নিয়ে। মালিঙ্গার জাদুকরী বোলিং আর ডি সিলভার স্পিনে জয়ের হাসিতে মাঠ ছাড়ে শ্রীলঙ্কা।

রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। দুই ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন মালিঙ্গা। আগের ম্যাচে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান ফিরেন থিতু হয়ে।

বোলিংয়ে ফিরে স্টোকসের সঙ্গে জো রুটের বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন মালিঙ্গা। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে কিপারের কাছে ক্যাচ দেন রুট। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নিয়ে ৩ চারে ৫৭ রান করা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে ফেরায় শ্রীলঙ্কা। ভাঙে ৫৪ রানের জুটি। পরে জস বাটলারকে ফেরান মালিঙ্গা।

তিন অলরাউন্ডার মইন আলি, ক্রিস ওকস ও আদিল রশিদ খুব একটা সঙ্গ দিতে পারেননি স্টোকসকে। তিনজনকেই ফেরান অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার ডি সিলভা।

একাদশ ব্যাটসম্যান উড যখন ক্রিজে আসেন তখন ৪৬ রান প্রয়োজন ইংল্যান্ড। মালিঙ্গার দশম ওভারটি দেখেশুনে খেলে শেষ বলে সিঙ্গেল নেন স্টোকস। ইসুরু উদানার পরের ওভারে দুই ছক্কায় ১৫ রান নেন। নুয়ান প্রদিপের পরের ওভারে ৯ রান নিয়ে শেষ বলটি খেলতে দিয়েছিলেন উডকে। আগের ওভারের শেষ বলটি খেলে দেওয়া এই ব্যাটসম্যান পারেননি এবার। জয়ের উল্লাসে মাতে শ্রীলঙ্কা। চারটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৮৯ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন স্টোকস।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি লঙ্কানদের। ৩ রানের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ও কুসল পেরেরা। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো মাঠে নামা ফার্নান্দো পাল্টা আক্রমণে দূর করে দেন সব চাপ। ইংল্যান্ডের গতিময় পেসার জফরা আর্চারকে হাঁকান দুই ছক্কা।

মার্ক উডের বাউন্সারে আপারকাট করে থার্ড ম্যানে ধরা পড়ে শেষ হয় ফার্নান্দোর পথ চলা। তার বিদায়ের পর কমে রানের গতি। সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকেন কুসল মেন্ডিস ও ম্যাথিউস।

কুসল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে ৭১ রানের জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার আদিল রশিদ। পরের বলে ফিরিয়ে দেন দলে ফেরা জিবন মেন্ডিসকে। পরপর দুই বলে উইকেট হারিয়ে আরও সাবধানী হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ইনিংসে তাদের সবচেয়ে মন্থর ফিফটি আসে এর পরেই।

ষষ্ঠ উইকেটে পঞ্চাশ ছুঁতে ৭৩ বলে খেলেন ম্যাথিউস ও ডি সিলভা। বোলিংয়ে ফিরে ডি সিলভাকে ফিরিয়ে ৫৭ রানের জুটি ভাঙেন আর্চার। জ্বলে ওঠার আগেই থিসারা পেরেরাকেও বিদায় করেন তিনি।

ইসুরু উদানাকে ফেরানোর পর দারুণ এক ইয়র্কারে মালিঙ্গাকে বোল্ড করে দেন উড। ৪০ রানে ৩ উইকেট নেন এই পেসার। আর্চার ৫২ রানে নেন ৩ উইকেট।

লঙ্কানদের বড় লক্ষ্য গড়তে দেয়নি ইংলিশ বোলাররা। তবে তাদের চেয়েও ভালো বোলিং করে ব্যবধান গড়ে দিলেন মালিঙ্গা। ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিতে নিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

৬ ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে ভেসে যায় তাদের। সমান ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আছে ইংল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৩২/৯ (করুনারত্নে ১, কুসল পেরেরা ২, ফার্নান্দো ৪৯, কুসল মেন্ডিস ৪৬, ম্যাথিউস ৮৫*, জিবন মেন্ডিস ০, ডি সিলভা ২৯, থিসারা ২, উদানা ৬, মালিঙ্গা ১, প্রদিপ ১*; ওকস ৫-০-২২-১, আর্চার ১০-২-৫২-৩, উড ৮-০-৪০-৩, স্টোকস ৫-০-১৬-০, মইন ১০-০-৪০-০, রশিদ ১০-০-৪৫-২, রুট ২-০-১৩-০)

ইংল্যান্ড: ৪৭ ওভারে ২১২ (ভিন্স ১৪, বেয়ারস্টো ০, রুট ৫৭, মর্গ্যান ২১, স্টোকস ৮২*, বাটলার ১০, মইন ১৬, ওকস ২, রশিদ ১, আর্চার ৩, উড ০; মালিঙ্গা ১০-১-৪৩-৪, প্রদিপ ১০-১-৩৮-১, ডি সিলভা ৮-০-৩২-৩, থিসারা ৮-০-৩৪-০, উদানা ৮-০-৪১-২, জিবন মেন্ডিস ৩-০-২৩-০)

ফল: শ্রীলঙ্কা ২০ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: লাসিথ মালিঙ্গা

You Might Also Like