রেসিডেনসিয়ালের ছাত্র আবরারের মৃত্যুর তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের মৃত্যুর তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা করে এ কমিটি গঠন করে।

কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ শনিবার (২ নভেম্বর) বলেন, কলেজের এক উপাধ্যক্ষকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অধ্যক্ষ জানান, শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তাদের বিশৃঙ্খলা অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা আর আন্দোলন করবে না বলে আশ্বস্ত করেছে।

এদিকে, শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় স্কুল এবং কলেজ শাখা তালাবদ্ধ ছিল কিন্তু কলেজের বাইরে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে বলে জানা গেছে। চার দফা দাবিতে কলেজের মূল গেটের সামনে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে

১. ঘটনার সময় সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে হবে

২. অনুষ্ঠানের ম্যানেজমেন্টের দায় স্বীকার করে কিশোর আলো ইভেন্ট অর্গানাইজ আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্য দিতে হবে

৩. কমিটির রিপোর্ট ছাত্রদের হাতে পৌঁছাতে হবে

৪. শুধু দুর্ঘটনা নয়, তাদের গাফিলতি ম্যানেজমেন্ট এবং উদাসীনতা উল্লেখ করে পত্রিকায় বিবৃতি প্রদানে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আমার ভাই মরা গেল, ‘কিশোর আলো চুপ কেন, কিশোর আলোর অমানবিকতা, মানি না মানবো না’ এ জাতীয় স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, আবরার ওই প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির দিবা শাখার শিক্ষার্থী। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। শুক্রবার রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে কিশোরদের মাসিক পত্রিকা কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিল সে। বিকেলে অনুষ্ঠান মঞ্চের পেছনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সেখানে জরুরি মেডিকেল ক্যাম্পের দুই চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এরপর তাকে মহাখালীর বেসরকারি ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের অনুরোধে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গনেশ গোপাল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘কি আনন্দ’ শিরোনামের ওই অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি মঞ্চের পেছনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আবরার।

শুক্রবার রাতে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মাঠে জানাজা শেষে আবরারের মরদেহ গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ধন্যপুরে নেয়া হয়। শনিবার সকালে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

You Might Also Like