হোম » রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ-হত্যা করা হয়

রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ-হত্যা করা হয়

ঢাকা অফিস- Wednesday, August 30th, 2017

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের মধ্যে রাস্তার পাশে গত শুক্রবার উদ্ধার হওয়া তরুণীর (২৪) মৃতদেহের পরিচয় পেয়েছে পুলিশ।

নিহত ওই তরুণীর নাম রূপা খাতুন। তিনি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আছানবাড়ী গ্রামের জিলহাস প্রামাণিকের মেয়ে। তাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন বড় ভাই হাফিজুর প্রামাণিক।

এ ঘটনায় পুলিশ সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে তিনজন আজ বিকেলে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে রূপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, রূপা খাতুন অনার্স শেষ করে ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজে এলএলবি বিষয়ে অধ্যায়নরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ইউনিলিভার বাংলাদেশের শেরপুর জেলায় কর্মরত ছিলেন। গত শুক্রবার শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে বগুড়া যান। পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী ছোঁয়া পরিবহনের বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৬৩) তার এক সহকর্মীর সঙ্গে যাত্রা করেন।

ওই সহকর্মীর কর্মস্থল ঢাকায় হওয়ায় তিনি এলেঙ্গাতে নেমে যান এবং রূপা ওই বাসে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ময়মনসিংহ না পৌঁছালে সহকর্মীরা রূপার মোবাইলে ফোন করলে এক যুবক রিসিভ করেন এবং জানান, মালিক মোবাইল ফেলে রেখে গেছেন। এরপর সংযোগ কেটে যায় এবং পরে মোবাইল বন্ধ থাকে।

শনিবার সকালে রূপা কর্মস্থলে না আসায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের শেরপুর অফিস থেকে তার বড় ভাই হাফিজুর প্রামাণিককে মোবাইলে বিষয়টি অবগত করা হয়। রূপার মোবাইলে যোগাযোগ করতে না পেরে হাফিজুর ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় ডায়েরি করেন। সোমবার গণমাধ্যমে খবর পড়ে তিনি মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে সেটি তার বোনের বলে নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি রূপার সহকর্মীর দেওয়া তথ্য পুলিশকে জানান।

পরে রূপার ভাই এ বিষয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ সোমবার রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী ছোঁয়া পরিবহনের বাসের (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৬৩) চালক, কন্ট্রাকটার ও হেলপারসহ পাঁচজন স্টাফকে আটক করে। আজ বিকেলে তাদের টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বাসের হেলপার শামীম, আকরাম ও সহকারী জাহাঙ্গীর স্বীকারোত্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম, গোলাম কিবরিয়া ও মো. শামছুল আলম আলাদাভাবে তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকার বনাঞ্চলের রাস্তার ধারে এক তরুণীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে মধুপুর থানা পুলিশ।

ধর্ষণের পর নির্যাতন করে তাকে হত্যা করে অপরাধীরা লাশ ফেলে গেছে বলে তখন ধারণা করেছিল পুলিশ। লাশের পরিচয় না পাওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে সেটি দাফন করা হয়।