রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র দুশ্চিন্তার কারণ নেই, বর্জ্য রাশিয়া নিয়ে যাবে: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য যেটা হবে, সেটা রাশিয়া নিয়ে যাবে বলে কথা দিয়েছে। আর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

বৃহস্পতিবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের ৩৭তম কার্যদিবসে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব সম্পর্কিত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি। এটা নির্মাণ করা এতো সহজ না। এটা সেই ১৯৬২ সাল থেকে চিন্তা-ভাবনার প্রকল্পের জায়গা। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা একটি কমিটি করি। এখানে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এমনকি আমেরিকায় একটি নিউক্লিয়ার প্রতিষ্ঠানের লোক এসে নিজেরা দেখে গেছে জায়গা।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে যে উদ্যোগটি নিয়েছিলাম, মাঝখানে ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত কোনো কিছু হয়নি। ২০০৯ সালে এসে আবার আমরা উদ্যোগ নেই এবং যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি, তা এখন আরো আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন প্রক্রিয়া অনুযায়ী হচ্ছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যে বর্জ্য হবে সেটার জন্যও রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এর ব্যবস্থা তারা করবেন। তারা এটা আমাদের কথা দিয়েছেন। এখন অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যাতে কোনো রকম ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

‘রামপালের ধোঁয়া সুন্দরবনের দিকে যাবে না’

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, রামপাল সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনে হচ্ছে না, রামপালে হচ্ছে। আর এটি হচ্ছে সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্লান্ট। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ধোঁয়া কোনোভাবেই সুন্দরবনের দিকে যাবে না। এটা এতো উপরে চলে উঠে যাবে সেটা সুন্দরবনে পৌঁছাবে না, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর এই প্রকল্প এলাকায় লাখ লাখ বৃক্ষ লাগানো হবে, ইতোমধ্যে দেড় লাখ গাছ লাগানো হয়ে গেছে।

‘ক্ষুদ্রঋণের নামে দারিদ্র্য লালন-পালন হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে ক্ষুদ্রঋণের নামে দারিদ্র্য লালন-পালন করা হয়েছে। আর যারা ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা করেছে, তারা ধনশালী ও সম্পদশালী হয়েছে। এ বিষয়টি যেন গবেষণা করে দেখা হয়।

দেশের দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংকসহ অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্র্যাক ও গ্রামীণ ব্যাংকের বছরে এক শতাংশ করে দারিদ্র্য বিমোচন করার তথ্য অস্বাভাবিক।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্র্যাক ও গ্রামীণ ব্যাংক নাকি প্রতিবছর ১ শতাংশ করে দারিদ্র্য হ্রাস করেছে। ব্র্যাক এ দেশে কাজ শুরু করে ১৯৭২ সালে, গ্রামীণ ব্যাংক ৮৫ সাল থেকে। এই দুই জায়গা থেকে যদি বছরে ১ শতাংশ করে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়ে থাকে, তাহলে এত দিনে বাংলাদেশে তো দারিদ্র্য থাকার কথা নয়। শূন্যের কোটায় চলে যাওয়ার কথা বহু আগেই। কিন্তু গেল না কেন? সেটাই আমার প্রশ্ন।

‘কাদের মুখে আমরা গণতন্ত্রের কথা শুনি?’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাদের মুখে আমরা গণতন্ত্রের কথা শুনি? যাদের মার্শাল’ল বা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের পদলেহন করে, তারাই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী থাকলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে পায়। যদি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নাই-ই থাকে তবে সরকারের এতো সমালোচনা তারা করেন কীভাবে?

তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আছে বলেই দেশের এতো উন্নয়ন হচ্ছে। অনেকে বলেন, শুধু উন্নয়ন করলে হবে না, গণতন্ত্র থাকতে হবে। দেশে এতো উন্নয়ন ও অগ্রগতির পরও যারা কিছুই দেখতে পান না তারা আসলে কী চায়?’

‘জঙ্গিবাদ দমন করবই’

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধ সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেব না। যে উপায়ই হোক, জঙ্গিবাদ দমন করবই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে বলেনি। আমাদের নবী করিমও (সা.) নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে বলেননি। কী অদ্ভুত একটা পরিবেশ বাংলাদেশে। তবে শুধু বাংলাদেশ নয়, জঙ্গিবাদ এখন সারা বিশ্বের সমস্যা।

গত ২২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন। ২৩ জানুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ২৩৫ জন সংসদ সদস্য ওই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় আলোচনায় অংশ নেন। শেষ দিন ৯ মার্চ সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

You Might Also Like