রিয়ালও বছর শুরু করল ড্র নিয়ে

গত বছর ভ্যালেন্সিয়ার ঘরের মাঠ মেস্তায়ায় হেরেই ২২ ম্যাচের জয়রথ থেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদের। নতুন বছরের শুরুতে সেই মেস্তায়াতে জিতেই নিজেদের ঢেলে সাজানোর স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু বিধি বাম। গ্যারি নেভিলের দল দুই-দুইবার এগিয়ে যাওয়া রিয়ালকে শেষ পর্যন্ত ফিরিয়েছে জয় ছাড়াই। রোববার রাতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে মূল্যবান দুটি পয়েন্ট হারিয়েছেন রোনালদো-বেল-বেনজেমারা।

রিয়ালকে জয়-বঞ্চিত করে ঘরের মাঠে ভ্যালেন্সিয়ার ‘অজেয়’ থাকার সুখ-সময় আরও দীর্ঘায়িতই হয়েছে। ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর বার্সেলোনার বিপক্ষে হারের পর গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেস্তায়ায় যে কোনো ম্যাচ হারেনি ভ্যালেন্সিয়া।

এই ড্রয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় বার্সেলোনাকে ছোঁয়ার সুযোগ হারাল রিয়াল। ১৮ ম্যাচ থেকে তাদের পয়েন্ট ৩৭। একটি ম্যাচ কম খেলা বার্সার পয়েন্ট ৩৯। ১৮ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

জয়টা রিয়ালের জন্য ছিল অতি-প্রয়োজনীয়। লিগ লড়াইয়ে নিজেদের ফেরানোর ব্যাপারটা তো ছিলই, প্রয়োজন ছিল কোচ রাফায়েল বেনিতেজের অবস্থাটাও কিছুটা সংহত করা। জয়ের লক্ষ্যে শুরু থেকেই ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণকে ছিঁড়ে-কুড়ে খাওয়ার একটা প্রবণতা ছিল ব্লাঙ্কোসদের মানসিকতায়। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই ‘বিবিসি’র একটি সম্মিলিত প্রয়াসে করিম বেনজেমা গোল করে এগিয়ে দেন রিয়ালকে।

গোলের উৎসে ছিলেন বেনজেমাই। ফরাসি স্ট্রাইকারের বাড়ানো বল ধরে গ্যারেথ বেল তা বাড়িয়ে দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। রোনালদোর কাছ থেকে ওই বেনজেমাই বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন।

প্রথম গোলটির স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি রিয়ালের। প্রথমার্ধের একেবারে অন্তিম মুহূর্তেই পেপের ফাউলের কারণে পেনাল্টি পেয়ে যায় ভ্যালেন্সিয়া। সেই পেনাল্টি থেকে দলকে ম্যাচে ফেরান দানিয়েল পারেহো।

দ্বিতীয়ার্ধে দশজনের দলে পরিণত হয় রিয়াল। প্রতিপক্ষের জোয়াও কানসেলোকে বাজে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন মাতেও কোভাসিচ। তবে দশজনের দল নিয়েও ৮২ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় রিয়াল। টনি ক্রুসের ক্রস থেকে গ্যারেথ বেলের হেড যখন জাল খুঁজে নিয়েছিল, জয়টা দৃষ্টি সীমানাতেই দেখছিল রিয়াল। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার উল্লাস হাওয়ায় মিলিয়ে না যেতেই পাসো আলকাসের হেড হতাশায় ডুবিয়ে দেয় রিয়াল-শিবিরকে।

ম্যাচের একেবারে শেষ ৫ মিনিট ছিল পুরোপুরি রিয়ালের। খেলায় ফিরতে মরিয়া রিয়াল আদায় করে নিয়েছিল পরপর তিনটি কর্নারও। কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে ভ্যালেন্সিয়া নিজেদের মনোযোগটা ধরে রাখে একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

You Might Also Like