হোম » রিয়াদ সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা: ‘প্রয়োজনে সৌদি আরবে সেনা পাঠাবে বাংলাদেশ’

রিয়াদ সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা: ‘প্রয়োজনে সৌদি আরবে সেনা পাঠাবে বাংলাদেশ’

ঢাকা অফিস- বৃহস্পতিবার, মে ১৮, ২০১৭

সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে আগামী শনিবার রিয়াদ যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আগামী ২১ মে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ‘আরব ইসলামিক আমেরিকান সামিট’-এ যোগ দেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আরব বিশ্ব ও অন্যান্য মুসলিম দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্র জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান এবং সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের সামগ্রিক সাফল্য তুলে ধরবেন।’ পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যৌথভাবে করণীয় বিভিন্ন প্রস্তাবও দিতে পারেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ আলী বলেছেন, সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা ও মদিনার দুই মসজিদ হুমকিতে পড়লে সৌদি আরবের সহযোগিতায় প্রয়োজনে সৈন্য পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। তবে কেন মক্কা ও মদিনার দুই মসজিদের হুমকি বা আক্রান্ত হওয়ার প্রশ্ন আসছে তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘মক্কা ও মদিনা মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্রতম স্থান। মুসলমান দেশ হিসেবে দুই পবিত্র মসজিদের ব্যাপারে যে ভক্তি ও ভালোবাসা আছে, যদি মক্কা ও মদিনার মসজিদ হুমকিতে পড়ে এবং সৌদি আরব আমাদের সহযোগিতা চায়, তাহলে অবশ্যই সৈন্য পাঠাব। যদি এ রকম কিছু হয়, তবে সামরিক সাহায্য দিতে প্রস্তুত থাকব।’

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগের অবস্থানই অটুট আছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগের অবস্থানেই আছি।’

সামরিক জোটে গিয়ে কি লাভ হবে বাংলাদেশের? এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সৌদি ও ইরানের দ্বন্দ্বের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ আলী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা নেই। আশঙ্কাও ভিত্তিহীন। বরং প্রস্তাবিত সামরিক জোট মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনতে সহায়ক হবে। এমনকি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের বিরোধ নিরসনেও সেটি সহায়ক হবে। বাংলাদেশও সেটাই চায়।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের মতো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলা করাই সৌদি কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। সৌদি কেন্দ্রের নামকরণ হয়েছে ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর কমবেটিং এক্সট্রিমিস্ট থট’। বাংলাদেশ মনে করে, এই যে হানাহানি চলছে, এর অবসান হওয়া উচিত।’

বাংলাদেশে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার বিষয়ে সৌদি সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা থেকে তারা সরে আসেনি বলেও জানান তিনি।