রাসিক নির্বাচনে ভোট চাইলেন লিটন

আগামী রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে মহানগরবাসীর কাছে ভোট চাইলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ভোট প্রার্থনা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন।

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) আমাকে রাজশাহীর কল্যাণে অকুণ্ঠ চিত্তে অজস্র অর্থ দিয়েছেন। আমি মেয়র থাকাকালে তিনি প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা উন্নয়নের জন্য দিয়েছিলেন। যার অর্ধেকও আমি খরচ করতে পারি নাই। তিনি গ্যাসের সংযোগ দিয়েছেন। রাজশাহীর মা-বোনেরা একটু আরামে রান্না করবে। রাজশাহীর শিল্পায়ন হবে। রাজশাহীর মানুষ উন্নয়ন দেখে বলেছিল, তারা আর একটিবার দল-মত নির্বিশেষে নির্বাচনে আমাকে ভোট দিতে চায়। কিন্তু দুঃখের সাথে আজ স্বীকার করতে হয়, সেই কথা তারা রাখে নাই। আমি হেরে যাওয়ার পরও, মেয়র হিসেবে এই শহরে অন্য দলের একজন আসার পরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অকুণ্ঠ চিত্তে তার উন্নয়ন বরাদ্দ অব্যাহত রেখেছেন। একটি প্রজেক্টও বাদ দেন নাই।

রাজশাহীবাসীর জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পদক্ষেপ তুলে ধরে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এখন আমি বলতে চাই, আপনারা কি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান? যদি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান, সারা দেশের মতোই নেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে যদি উন্নয়ন করতে চান, তাহলে রাজশাহীর সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ মোট ছয়টি আসনেই আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নেত্রীকে হাত তুলে দেখিয়ে দিন আপনারা উন্নয়নের পক্ষে আছেন।

তিনি আরো বলেন, আমি কি আপনাদের কাছে এইটুকু ভালবাসা পেতে পারি না? এইটুকু স্নেহ-দরদ পেতে পারি না, যেইটুকু আমার পিতাকে দিয়েছিলেন। যেইটুকু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দিয়েছিলেন। তার একটি অংশ রাজশাহীর উন্নয়নে আমাকে কি আপনারা দিতে পারেন না?

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র বলেন, ভুল করলে ভুলের মাশুল আমাদেরকেই দিতে হবে। দেশ থেমে থামবে না। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কের উঠে গেছে। এই দেশের উন্নয়ন কেউ আর কোনদিন থামাতে পারবে না।

জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রত্যেকেই আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়নের জন্য খায়রুজ্জামান লিটনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও সামনের দিনে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, আমরা আগেও রাজশাহী দেখেছি। লিটনের রাজশাহীও দেখেছি। এখনকার রাজশাহীও আমরা দেখছি। রাজশাহীর মানুষও দেখছে। একজন মানুষ তার এলাকাকে কতটা ভালবাসেন। কতটা দরদ দিয়ে চিন্তা করে এলাকাকে সুসংগঠিত করতে পারে তার অন্যতম প্রধান উদাহরণ আপনাদের সন্তান কর্মবীর নেতা খায়রুজ্জামান লিটন।

তিনি আরো বলেন, তার সুযোগ ছিল জাতীয় নেতা হবার। তার সুযোগ ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহীর অনেক বড় নেতা হওয়ার। পৈত্রিকভাবে উচ্চ অধিকারের কারণেই তার সুযোগ ছিল আওয়ামী লীগের অনেক বড় জায়গার পৌঁছাবার। কিন্তু তিনি ঢাকায় যান নাই। তাকে বারবার বলেও আমরা রাজশাহী মহানগর থেকে প্রস্থান করাতে পারি নাই। তিনি ছুটে এসেছেন রাজশাহীতে, যেখানে তার পিতার দেহ শুয়ে আছে। দরদ দিয়ে, সময় দিয়ে, ঘাম দিয়ে, শ্রম দিয়ে তিনি রাজশাহীর মাথা উঁচু করবার চেষ্টা করেছেন। সেই খায়রুজ্জামান লিটনকে রাজশাহীর মানুষ কী মনে করে ২০১৩ সালে শাস্তি দিলেন? আমি জানি না! লিটনের চেয়ে বড় নেতা এখনো রাজশাহীতে জন্মায় নাই। লিটনের চেয়ে রাজশাহীপ্রেমিক রাজশাহীতে এখনো জন্মায় নাই। লিটনের চেয়ে রাজশাহীর মানুষের প্রতি দরদ আমি কারো চোখে দেখি নাই, কারো অন্তরে দেখি নাই।

এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে জনসভা হয়। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কার্যনির্বাহী সদস্য নূরুল ইসলাম ঠান্ডু, আমিরুল আলম মিলন, মেরিনা জামান কবিতা, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আয়েন উদ্দিন এমপিসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা।

You Might Also Like