হোম » রাষ্ট্রের ভিত্তি ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে : ফখরুল

রাষ্ট্রের ভিত্তি ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে : ফখরুল

admin- Saturday, August 19th, 2017

সরকার ইচ্ছে করেই দেশে সহিংস অবস্থা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার নিজেকে টিকিয়ে রাখতে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে চাচ্ছে। তা না হলে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা নজিরবিহীন। অতীতে কখনও দেখিনি। তারা তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই এসব করছে। দেশে ভয়াবহ বন্যা- সেদিকে সরকারের কোনো খেয়াল নেই।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এনডিপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় দলটির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদৎ হোসেন সেলিম প্রমুখ।

এর আগে সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল। যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, যুব দলের নুরুল ইসলাম নয়ন, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

এনডিপির আলোচনা সভায় ২০ দলসহ দেশের সব রাজনৈতিক দল ও সামর্থ্যবান মানুষকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ২০ দলকে আরও সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। সবার কার্যক্রম বৃদ্ধি করেন। বিএনপি ইতিমধ্যে ত্রাণ কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করে দিয়েছে। সবাই এগিয়ে আসুন। দেশের সব দলকে বন্যার্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। বিদেশে বিএনপির কোনো প্রভু নেই। তাই জনগণের পাশে আছি আমরা।

জাহিদ আনোয়ারকে স্মরণ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্বাধীন সার্বভৌম, প্রভাবমুক্ত দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। নিজেদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হব, ভাগ্য পরিবর্তন করব- এই চিন্তার সঙ্গে গণতান্ত্রিক একটা রাষ্ট্র ব্যবস্থাও থাকবে। দুর্ভাগ্য সেই চিন্তা-চেতনা-ধারণা থেকে বাংলাদেশ অনেক দূরে সরে এসেছে। এখন শুনতে বা বুঝতে হয়, বিদেশের দ্বারা আমাদের রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়। নিজেদের রাজনীতি নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের তিনটি মূল স্তম্ভ- সংসদ, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ। আওয়ামী লীগ সংসদ ও নির্বাহী বিভাগ খেয়েছে, এখন বিচার বিভাগের ওপর হাত দিয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের ভিত্তিই ধ্বংস করে দিচ্ছে। চক্রান্ত করছে সরকার। তারা এখন পুরোপুরি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা তৈরি করতে চাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে আনতে নির্বাচন কমিশন কোনো মধ্যস্থতা করবে না- এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আইনে কি আছে সেটা নয়। আপনাকে বাস্তবে কি আছে, সেটা দেখতে হবে। আপনি কাদের নিয়ে নির্বাচন করবেন? আপনি রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়েই নির্বাচন করবেন। রাজনৈতিক দলগুলো যদি মনে করে, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই তাহলে আপনি কি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো রকিব মার্কা নির্বাচন করবেন? তিনি বলেন, আলোচনা করতে হবে, কথা বলতে হবে। নির্বাচন কমিশনকেই উদ্যোগ নিতে হবে। সংলাপ বা আলোচনা ছাড়া কখনই কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি দেশের ভালো চান তাহলে সরকারকেই আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। নির্বাচন এলেই আওয়ামী লীগ নানা টালবাহানা করে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নেই।

ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিল প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বলেন, রায়ে যদি সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন রিভিউ করতে পারেন। সেটা না করে আওয়ামী লীগ জোর করছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা কি করে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে যান? প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এতে জাতি আজ উদ্বিগ্ন। অসামরিক ব্যবস্থাপনায় বিচার বিভাগের ওপর এ ধরনের হস্তক্ষেপ নজিরবিহীন।

দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে দায়ী করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বে ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কে যে রায় এই খায়রুল হক দিলেন, তারপর থেকে দেশে এত অস্থিতিশীলতা, অনিশ্চয়তা ও সংহিংসতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একজন বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পর লাভজনক প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারেন না। তিনি আবার প্রেস ব্রিফিংও করেছেন। খায়রুল হকই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মূল রূপকার ছিলেন। তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। অবিলম্বে তার পদত্যাগ ও বিচার দাবি করছি। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের উন্নয়নের কারণে রাস্তায় চলাচল করা যায় না। ৬ ঘণ্টার জায়াগায় এখন যেতে ১৬ ঘণ্টা লাগে। মফস্বল এলাকায় ১৫-১৬ বার করে লোডশেডিং হয়। ব্রিজ, বিল্ডিং, রেললাইন ইত্যাদি উন্নয়ন কাজে আজকে বাঁশ ব্যবহার করছে। খুন, ধর্ষণ নিত্যঘটনা। এসবের সঙ্গে আওয়ামী ঘরানার লোকজন সম্পৃক্ত। গণতন্ত্রহীনতার কারণেই দেশের এ অবস্থা।