হোম » রাশিয়ায় রোহিঙ্গা-সমর্থনকারী বিক্ষোভকারীদের আটক

রাশিয়ায় রোহিঙ্গা-সমর্থনকারী বিক্ষোভকারীদের আটক

ঢাকা অফিস- Monday, September 11th, 2017

রোহিঙ্গা নিধনের প্রতিবাদে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে বিক্ষোভের সময় প্রায় শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

স্থানীয় সময় রোববার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রায় ২০০ লোক জড়ে হয়ে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে। কিন্তু অনুমতি না দেওয়ার পরও বিক্ষোভ করতে লোকজন জড়ো হলে তাদের ওপর হানা দেয় রুশ পুলিশ বাহিনী।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে সেন্ট পিটার্সবার্গ স্কয়ারে জড়ো হওয়া দুই শতাধিক লোকের মধ্যে প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ফেলে ধাওয়া দিয়ে তাদের পুলিশের গাড়িতে উঠতে বাধ্য করা হয়।

এক বিক্ষোভকারী চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমাদের ভাইদের আটক করা হয়েছে। কেন সবসময় মুসলিমদের বিরুদ্ধে দোষ দেওয়া হয়, কেন তারা আমাদের আটক করছে?’

বিক্ষোভে আসা মাখমুদ (৪৫) বলছিলেন, ‘আমরা কেন আমাদের কথা বলতে পারব না? মিয়ানমারে আমাদের ভাইদের সঙ্গে যা ঘটছে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গণহত্যা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। এরই মধ্যে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মিয়ানমারের এই জুলুমের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের আহ্বানের পর থেকে বিক্ষোভ আরো জোরালো হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একান্ত অনুগত হলেও চেচনিয়ার নেতা রমজান কাদিরভ গত সপ্তাহে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে মস্কোর প্রতি আহ্বান জানান। তার আহ্বানের পর চেচনিয়ার প্রধান শহর গ্রোজনিতে কয়েক হাজার লোক জড়ে হয়ে রোহিঙ্গাদের সমর্থনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

রোহিঙ্গা নিধনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা কথা বললেও এখনো পর্যন্ত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো চাপ প্রয়োগ করেনি রাশিয়া।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাদিরভের অবস্থান সম্পর্কে গত সপ্তাহে জানতেই চাইলে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘আমরা যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে।’ তিনি আরো যুক্ত করেন, ‘পদের ঊর্ধ্বে উঠে যেকোনো ব্যক্তির মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।’

রাশিয়া ও মিয়ানমার মিত্র দেশ। গত বছর দুই দেশের মধ্যে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির আওতায় মিয়ানমারে সামরিক যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র রপ্তানি করছে রাশিয়া।