রাম মন্দির, মথুরা ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দির নির্মাণের দাবি সুব্রমনিয়াম স্বামীর

ভারতে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য আদালতে আইনি লড়াই চলার মধ্যে এবার মথুরা এবং কাশী বিশ্বনাথ মন্দির নির্মাণের কথা ঘোষণা করলেন বিজেপি’র সিনিয়র নেতা ও দলীয় এমপি সুব্রমনিয়াম স্বামী। শুক্রবার এক বেসরকারি হিন্দি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০১৯ সালের পরে মথুরা এবং কাশীর মূল মন্দিরের জন্য আন্দোলন শুরু করা হবে।

বিজেপি’র ওই নেতার দাবি, মুঘলরা ৪০ হাজার মন্দির ভেঙে ফেলেছিল সেসবের তালিকা তাদের কাছে আছে।

তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ৪০ হাজার মন্দির পুনর্নির্মাণ সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা বলছি যে, প্রধান ৩টি মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হোক। এরমধ্যে একটি কাশী বিশ্বনাথ, দ্বিতীয়টি মথুরা এবং তৃতীয়টি রাম মন্দির।’

তিনি বলেন, ‘রাম লালার মন্দিরের জন্য আমি কাজ করছি। ২০১৯ সালের পরে মথুরা এবং কাশী মন্দিরের জন্য কাজ করব। ২০১৯ সালের আগে আমাদের পক্ষ থেকে রাম মন্দির নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর পরে মথুরা এবং কাশী মন্দির নির্মাণের জন্য প্রচারাভিযান চালানো হবে।’

পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৯০-এর দশকে যখন বিজেপি প্রথম রাম মন্দির নির্মাণের আন্দোলন শুরু হয়েছিল তখন স্লোগান উঠেছিল, ‘অযোধ্যা স্রেফ ঝাকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়।’ তাহলে কী সুব্রমনিয়াম স্বামী সেই কর্মসূচির কথারই পুনরাবৃত্তি করে মথুরা এবং কাশীর বিষয়টি উসকে দিলেন- এই প্রশ্নই প্রকট হয়ে উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য ও বাবরী মসজিদ অ্যাকশন কমিটির আহ্বায়ক আইনজীবী জাফরইয়াব জিলানী অন্য এক টিভি চ্যানেলে বলেন, ‘পার্লামেন্টে এর আগে আইন পাস করা হয়েছে যে, অযোধ্যার বাবরী মসজিদ-রাম জন্মভূমি বিতর্ক বাদে দেশের অন্যত্র যেসব ধর্মস্থান আছে তাদের স্থিতি সেরকম থাকবে যেরকম ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে ছিল।’

মথুরা এবং কাশী নিয়ে সুব্রমনিয়াম স্বামীর মন্তব্য প্রসঙ্গে জাফরইয়াব জিলানী বলেন, উনি এ সংক্রান্ত আইন জানেন, তিনি নিজেও আইনজীবী কিন্তু তা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে এসব কথা বলছেন।

রাম মন্দির নির্মাণ প্রসঙ্গে সুব্রমনিয়াম স্বামী এরইমধ্যে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যদি অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে সমঝোতা না হয় তাহলে আইন তৈরি করে রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে। তার দাবি, ২০১৮ সালে রাজ্যসভায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে সংসদে এ নিয়ে আইন তৈরি করা হবে।

You Might Also Like