রামপুরায় নিহত ১২ জনের লাশ হস্তান্তর

রাজধানীর রামপুরার বউবাজার এলাকায় মজা ঝিলের ওপর নির্মিত টিনশেড বাড়ি দেবে যাওয়ার ঘটনায় উদ্ধারকৃত ১২ জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রামপুরার চৌধুরীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে ঢাকার জেলা প্রশাসক তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া নিহতদের লাশ হস্তান্তর করেন। এসময় নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলো নিজাম উদ্দিন (৪৫), মিজানুর (৩০), হারুন অর রশিদ (২৮), সাইফুল ইসলাম (১৪), খাদিজা (১৯), কল্পনা (৪৫), রোকসানা (২২) ও জোছনা (৪০), ফারজানা (১২) জাকির (৩৫)  রুনা (১৪) ও একজন অজ্ঞাত।

টিনশেড থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা ১২ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই পোশাকশ্রমিক। তা ছাড়া, ওই টিনশেডে বসবাসকারী সবাই পোশাকশ্রমিক বলে জানা গেছে।

বুধবার রাত ১১টা পর্যন্ত ১২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।  উদ্ধার অভিযান চললেও বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত আর  কোনো মৃতদেহের সন্ধান মেলেনি।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক এ বি এম নুরুল হক জানান, পুরোনো ঝিলের ওপর নির্মিত দুর্বল কাঠামোর টিনশেড বাড়িটি বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ কাদা-পানিতে দেবে যায়। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি উদ্ধারকারী দল উদ্ধারে এখনো তৎপরতা চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে রেড ক্রিসেন্টের ১২ সদস্যের একটি দল উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।

মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মনিরুজ্জামান সরকারি জায়গায় গড়ে তোলা ওই টিনশেড বাড়ির মালিক।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ জানান,  কাদা-পানিতে ঘর ডুবে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুটি ক্রেন আনা হয়েছে এবং তা উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আজ বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালানো হবে।

এদিকে গতকালই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামকে। তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

You Might Also Like