হোম » রামপালে সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে, অভিমত ভারতীয় বিশেষজ্ঞের

রামপালে সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে, অভিমত ভারতীয় বিশেষজ্ঞের

এখন সময় ডেস্ক- Saturday, April 8th, 2017

গুজরাটে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে সৃষ্ট ‘ভয়াবহতা’বর্ণনা করে বাংলাদেশের রামপাল একই ধরনের কেন্দ্র প্রকৃতি ও মানুষের ওপর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে বলে মত দিয়েছেন ভারতীয় জ্বালানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সৌম্য দত্ত।

শনিবার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের গুজরাটের মুন্দ্রা এলাকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সৃষ্ট প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে যাওয়া সৌম্য দত্ত এমন মন্তব্য করেন।

সুন্দরবনের তুলনায় ছোট একটি ম্যানগ্রোভ বন মুন্দ্রায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “২০০৯ সালে এই এলাকাতে টাটা পাওয়ার ও আদানি গ্রুপ দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে, এর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে মুন্দ্রার ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের ৬০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়।”

গবেষণায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ওই এলাকায় মাছ নেই, জলজ উদ্ভিদ পাওয়াই যায় না এমন, কোনো প্রাণ নেই সেখানে। শুধু তাই নয় আশপাশের ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকায় মাছের পরিমাণ ৬০ শতাংশ কমে গেছে।”

বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছে তেল-গ্যাস খনিজ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। এই দাবিতে তারা হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে।

বাম দলগুলোর পাশাপাশি পরিবেশবাদীদের একটি অংশের আশঙ্কা,এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

তবে সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তার বিভিন্ন বক্তব্যে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বরাবরই বলে আসছেন,এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি রামপালবিরোধীদের ওই এলাকা ঘুরে দেখারও কথা বলেছেন।

ইন্ডিয়া পিপলস সায়েন্স ফোরামের ন্যাশনাল জেনারেল সেক্রেটারি সৌম্য বলেন, “মুন্দ্রা এলাকা এর আগে সফেদা ফলের জন্য বিখ্যাত ছিল, কিন্তু পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে ফল উৎপাদনেও। ফলে কৃষকরা সরে আসছে সফেদা চাষ থেকে। এছাড়াও খেজুর চাষ ৫০-৬০ শতাংশ কমে গেছে।”

ভারতের সবচেয়ে বড় উপকূলীয় এলাকা গুজরাটের মুন্দ্রার শিশু ও বৃদ্ধরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত দূষিত গ্যাসের কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগছে বলেও জানান এই বিশেষজ্ঞ।

“গুজরাটের চেয়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের জীব বৈচিত্র্য অনেক বেশি, এরকম একটি ‘সেনসিটিভ’ অঞ্চলে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।”

রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতকেও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মন্তব্য করে জনসমর্থন না থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সরকার ‘করপোরেট কন্ট্রোলে’ এই ‘সুন্দরবন-বিনাশী প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে বলে জানান তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক আনু মুহাম্মদ।

“অনেকগুলো ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এখানে জড়িত আছে। শকুন যেভাবে অপেক্ষা করে গরু মরার জন্য তেমনি তারা অপেক্ষা করে আছে কখন সুন্দরবন মারা যাবে আর তারা জমি দখল করবে।”

খুলনাসহ উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষদের নিয়ে আগামী ২০ এপ্রিল মহাসমাবেশের ডাক দেন তিনি।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে ‘মানবতা-বিরোধী অপরাধ’ অভিহিত করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “সরকার একদিকে আলো-বাতাস-পানি বন্ধ করে করছে, অন্যদিকে আমাদের কণ্ঠস্বর বন্ধের চেষ্টা করছে, এত সহজে আমাদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করতে পারবে না।”

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী সংগঠন ‘সুন্দরবন চাই’ আয়োজিত আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম, সংগঠনের সমন্বয়ক রিটা রহমান উপস্থিত ছিলেন।