রাতে বাস চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায়

লাগাতার অবরোধের গত একমাসের ঘটনার দিকে তাকালে বোঝা যাবে, দিনে পরিস্থিতি কোনোরকম থাকলেও রাতে পরিস্থিতি ক্রমেই নৃশংস ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। রাতেই বিভিন্ন বাসে একের পর এক পেট্রলবোমা হামলায় দগ্ধ হয়েছেন শতশত মানুষ। মারা গেছে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ।

এমন অবস্থায়, সরকারি নির্দেশনায় রাতে মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ বাস গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে ছেড়ে গেছে। এদিকে আজ আবারও পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

গতকাল রাজধানীর গাবতলী টার্মিনাল থেকে দুপুর ২টার পর উত্তরবঙ্গের বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের বরিশাল, খুলনা, যশোরসহ আশপাশের জেলার উদ্দেশে কোনো বাস ছাড়েনি। তবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা ফরিদপুর, মাদারীপুরের বাস ছেড়ে গেছে। মূলত, বিকেল ৫টার পর এই টার্মিনাল থেকে আর কোনো বাস ছাড়েনি বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে মহাখালী টার্মিনাল থেকে সন্ধ্যা ৭টার পর আর কোনো বাস ছাড়েনি। সায়েদাবাদ থেকে দুপুর ২টার পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটগামী কোনো বাস ছাড়েনি। তবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের বাস ছেড়ে গেছে। সন্ধ্যা ৬টার পর আর কোনো বাস ছাড়েনি।

রাতে বাস না চালানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সরকারি বাধ্যবাধকতা হচ্ছে, ঢাকা থেকেই ছেড়ে যাক বা অন্য কোনো জেলা থেকে ঢাকায় ফিরে আসুক উভয় বাসই রাত ৯টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। এ কারণে রাত ৯টার মধ্যে গন্তব্যে পেঁৗছা যাবে_ এমন সময় হাতে নিয়েই বিভিন্ন রুটের সর্বশেষ বাস ছাড়ছে। তবে বিকেল ৫টার পর গাবতলী টার্মিনাল থেকে এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে প্রধান প্রধান রুটের কোনো বাসই ছাড়েনি। ৪ থেকে ৫ শতাংশ মালিক আছেন যারা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাত ৯টার পরও বাস ছেড়েছেন। এ সংখ্যা খুবই নগণ্য এবং তাদের বাসের অবস্থা, সার্ভিস কোনোটাই ভালো নয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্ল্যা জানান, মহাখালী টার্মিনাল থেকে সর্বশেষ বাস ক’টায় ছাড়বে, সে ব্যাপারে রোববার পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। তবে মহাখালী টার্মিনালে এনা পরিবহনের ম্যানেজার পুলক চন্দ্র দাস জানান, সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে মহাখালী টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।

মহাখালী টার্মিনাল কমিটির একজন নেতা জানান, বিকেল ৫টার পর বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধা, নওগাঁর কোনো গাড়ি ছাড়েনি। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ছাড়ে সিরাজগঞ্জগামী বাস। এই নেতা জানান, এক অর্থে সন্ধ্যার পর মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধই রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘অব্যাহত নাশকতার কারণে জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই রাতে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি খুবই সাময়িক ব্যবস্থা। যে কোনো সময় এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।’

গত ৫ জানুয়ারির পর রাতে মহাসড়কে অবরোধ-হরতালকারীদের পেট্রোল বোমায় রংপুরের মিঠাপুকুর, গাইবান্ধা ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২১ জন দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীদের আগুন হামলা রাতেই বেশি হচ্ছে। এ কারণে গত শনিবার থেকে রাত ৯টার পর মহাসড়কে বাস না চালানোর নির্দেশনা দেয় সরকার।

You Might Also Like