রাজশাহীতে রেলভবন ঘেরাও, স্মারকলিপি

রাজশাহী থেকে মিটারগেজ রেলপথে সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং রেলের যাত্রী সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে রাজশাহী রেলভবনে অবস্থান কর্মসূচি ও রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

সোমবার দুপুরে রাজশাহীতে অবস্থিত পশ্চিম রেল ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে পশ্চিমাঞ্চল রেলের জেনারেল ম্যানেজার খায়রুল আলমের মাধ্যমে রেলপথমন্ত্রী বরাবর স্মালকলিপি পেশ করা হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে অবিলম্বে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী রেলপথ ব্রডগেজের পাশাপাশি মিটারগেজে উন্নীতকরণ ও রেলেওয়ে যাত্রী সেবার মান উন্নয়নের জোর দাবি জানানো হয়।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সহসভাপতি ও সমাজকর্মী কল্পনা রায়ের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে রাজশাহী রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি, রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাংগাঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম, রাজশাহী চেম্বারের পরিচালক সেকেন্দার আলী, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্মসম্পাদক মঞ্জুর হাসান মিঠু, বেনেতী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মহেষ চন্দ্র সরকার, সংস্কৃতিকর্মী মুনিরা রহমান মিঠি, রাজশাহী মহিলা চেম্বারের সভাপতি মনিরা মতিন জোনাকি, নাচোল উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান আবু তাহের খোকন, অধ্যাপক জিএম হারুন, কবি ও লেখক জিয়াউল ইসলাম জিয়া, জেলা লোকমোর্চার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা এম. শরিফ, দিগন্ত প্রসারীর আবদুল মতিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

পরে নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী নগরীতে পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের সদর দফতর। পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলপথ সদর দফতর বরেন্দ্র এলাকার আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে হতে পারে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। তবে অনুন্নত যোগাযোগের কারণে এখানে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তাই শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ইন্টারশিপ করতে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান পায় না। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর বিষয়েও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

রাজশাহী থেকে সরাসরি মিটারগেজ রেলপথের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু করতে পারলে রাজশাহীতে পোশাক শিল্পের দ্রুত বিকাশ সম্ভব। এ ছাড়া মিটারগেজ রেলপথের মাধ্যমে এখান থেকে কন্টনেইনার মাধ্যমে পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থা করা হলে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারাই রাজশাহীতে কারখানা গড়ে তুলবেন। রাজশাহীর সঙ্গে রেলপথের সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ করতে পারলে শিল্পের যেমন বিকেন্দ্রীকরণ হবে ঠিক তেমনি বেকারত্বের প্রকটতা হ্রাস পাবে।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ঢাকা থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত মিশ্রগেজ দেওয়া হয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, দিনাজপুর, রংপুরে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনে দুই ধরনের ট্রেনই চলাচল করতে পারে।

আব্দুলপুর থেকে রাজশাহী মাত্র ৪০ কি.মি রেলপথে মিটার গেজ বসানো হলে রাজশাহী থেকেও দুই ধরনের ট্রেন চলতে পারে। এক্ষেত্রে স্মারকলিপিতে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।