রাজন হত্যা: ৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

সিলেটে শিশু শেখ মো. সামিউল আলম রাজনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের রক্ষা করা এবং দায়িত্বে অবহেলা ও রাজনের বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া পর শুক্রবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এ ব্যবস্থা নেয়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার এবং মামলার বাদি এসআই আমিনুল ইসলাম ও থানার সেকেন্ড অফিসার জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান জানান, রাজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আসামিদের রক্ষা করা, দায়িত্বে অবহেলা ও রাজনের বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে তদন্তে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মুখপাত্র রহমত উল্যাহ জানান, তদন্ত কমিটি কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের শাস্তির সুপারিশ করেছে। সেই সুপারিশের আলোকেই ৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ৮ জুলাই সকাল ৭টা থেকে বেলা প্রায় ১১টা পর্যন্ত নির্যাতন করে শিশু রাজনকে হত্যা করা হয়। দুপুর ১টার দিকে মাইক্রোবাসযোগে তার লাশ গুম করার চেষ্টা করার সময় নগরীর কুমারগাঁও এলাকায় জনতা গাড়িসহ আসামি মুহিতকে আটক করে।
পরে রাজনের বাবা গাড়িচালক আজিজুর রহমান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। লাশের শরীরে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় আসামি মুহিতকে বাঁচাতে এবং মুহিতের সৌদিপ্রবাসী ভাই কামরুলকে পালিয়ে যেতে সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলাম সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন রাজনের বাবা। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও রাজনের বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারেরও অভিযোগ ওঠে পুলিশে এই দুই সদস্যের বিরুদ্ধে।
পরে রাজনের বাবার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ দুই পুলিশের বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. কামরুল আহসানের নির্দেশে ১৪ জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এম রুকন উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে অন্য দুই সদস্য হলেন উপকমিশনার মুশফেকুর রহমান ও উপকমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা।
কমিটি গঠনের তিন দিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদনে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে তা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আরও পাঁচদিন বাড়ানো হয়। আর বর্ধিত সময়ের শেষ দিনেই প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

You Might Also Like